কানাডায় থেকেও প্রধান অতিথি এমপি বাদল!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:৪৯ পিএম, ১৬ আগস্ট ২০১৮

দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর জনসভা ঠেকানোর নির্দেশনা দিয়ে গত ২০ জুলাই কানাডায় চলে যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফয়জুর রহমান বাদল। তবে তাকে প্রধান অতিথি করেই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শোক দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় আয়োজিত স্থানীয় প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সব অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপি ফয়জুর রহমান বাদলের নাম রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমপি বাদল গত ২০ জুলাই থেকে কানাডায় অবস্থান করছেন। কিন্তু গতকাল বুধবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে তার নাম রাখা হয়। এ নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অবশ্য এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে এমপি বাদল সমালোচিত হয়েছেন। তখনও একইভাবে ব্যানারে তাকে প্রধান অতিথি হিসেবে দেখানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, এমপি বাদল কোনো জাতীয় দিবসেই এলাকায় থাকেন না। কিন্তু ব্যানারে ঠিকই প্রধান অতিথি হিসেবে তার নাম রাখা হয়।

bbaria

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, উপজলোর সকল অনুষ্ঠানে এখানকার এমপি প্রধান অতিথি থাকেন। ১৪ তারিখ তার দেশে ফেরার কথা ছিল। আমরা তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করিনি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের জানিয়েছিলেন তিনি ১৪ তারিখ আসবেন।

তবে নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বলেন, আসলে ১৩ তারিখ রাতেই এমপি সাহেবের দেশে আসার কথা ছিলো। তিনি কোনো কারণে ফ্লাইট মিস করেছেন। দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এমপির নাম লেখা ছিল। তবে বাস্তবে প্রধান অতিথি আর কাউকে করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই নবীনগর উপজেলায় অনুষ্ঠিত তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর জনসভাকে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন এমপি ফয়জুর রহমান বাদল। ১৬ জুলাই নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দলের একটি বিশেষ সভায় নিজের কর্মী বাহিনীকে তথ্যমন্ত্রীর জনসভা ঠেকানোর নির্দেশনা দেন তিনি। মহাজোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতার জনসভা ঠেকানোর ঘোষণায় বিতর্কিত হন এমপি বাদল। পরে অবশ্য কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই তথ্যমন্ত্রীর ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/জেআইএম