প্রেম করে বিয়ে, স্ত্রীর কান ছিঁড়ে ফেললেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৫০ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮

বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামে এক মাদরাসাছাত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্বামী রাকিব খান পলাতক রয়েছেন।

রোববার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমাইয়া উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামের মজিবর হাওলাদারের মেয়ে ও বাকেরগঞ্জ মহিলা মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। রাকিব খান পটুয়াখালী জেলার বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের সিরাজ খানের ছেলে।

নিহত সুমাইয়ার বাবা মজিবর হাওলাদার বলেন, পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় তিনি পরিবার নিয়ে একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন। প্রতিদিনের ন্যায় সকালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। তিনি বের হওয়ার পরপরই তার স্ত্রীও বাসা থেকে বের হয়ে যান। ঘরে ছিল সুমাইয়া ও তার স্বামী রাকিব। বেলা ১১টার দিকে লোকমুখে জানতে পারেন রাকিব তার মেয়েকে মারধর করছে। দ্রুত বাসায় ছুটে গিয়ে সুমাইয়াকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার বাম কান ছিড়ে ফেলা হয়েছে। মেয়েকে বাঁচাতে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, সুমাইয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় ৬ মাস আগে রাকিব ও সুমাইয়ার বিয়ে হয়। রাকিব কাজ না করায় তার কাছে বিয়ে দেয়ার ইচ্ছে ছিল না। এরপরও মেয়ের দিকে তাকিয়ে বিয়ে দেয়ার পর রাকিব বেশিরভাগ সময় আমার বাসায় থাকতো। কোনো কাজ না করায় রাকিবের সঙ্গে সুমাইয়ার বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকতো। শেষ পর্যন্ত আমরা সিদ্ধান্ত নেই সম্পর্ক বিচ্ছেদের। যাতে সুমাইয়াও রাজী ছিল। এর জের ধরে রাকিব এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তার দাবি।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুজ্জামান জানান, সব আলামত দেখে মনে হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পলাতক রাকিবকে গ্রেফতার চেষ্টা এবং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

সাইফ আমীন/আরএ/জেআইএম