গোদাগাড়ীতে আ.লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশীর শোডাউনে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানীর মোটরসাইকেল শোডাইনে হামলা হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পিরিজপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা গোদাগাড়ী ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারী।

হামলার শিকার মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রাব্বানী তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি সেখানকার মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র।

গোলাম রাব্বানীর অভিযোগ, হামলায় অন্তত ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে একটি জিপ, একটি পিকআপ ভ্যান ও ২৫টি মোটরসাইকেল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গোদাগাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরব আলীর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছার আগেই হামলাকারীরা ওই এলাকা ত্যাগ করে।

গোলাম রাব্বানী বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় তিনি রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের নির্বাচনী এলাকায় শোডাউন দিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ৭০০ মোটরসাইকেল নিয়ে হাজার দুয়েক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক ছিলেন।

তানোর থেকেই শুরু হয় তাদের শোডাউন। গোদাগাড়ীর পিরিজপুর অতিক্রম করার সময় হামলার শিকার হন তারা। ভাঙচুরের পর মোটরসাইকেলগুলো ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তবে হামলার দায় অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরব আলী।

তার দাবি, শোডাউন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া হচ্ছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ধাওয়া করেন। পালাতে গিয়ে তাদের কেউ কেউ আহত হয়েছেন। পড়ে গিয়ে গাড়িগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে শোডাউন থেকে এমন কটূক্তি বা স্লোগান দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন গোলাম রাব্বানী। এ ঘটনায় তিনি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান এই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এদিকে কয়েক দফা চেষ্টা করেও মুঠোফোনে সংযোগ মেলেনি গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের। এনিয়ে তার মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এছাড়া জানতে চাইলে এ নিয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের গোদাগাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট শোক দিবসের আলোচনা সভা থেকে ফেরার পথে গোদাগাড়ী-কাকনহাট সড়কের সাধুর মোড়ে এমপির সমর্থকদের হামলার শিকার হন ওই আসনের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মতিউর রহমান।

একই কায়দায় সাবেক এই অতিরিক্ত আইজিপির গাড়ি বহরেও হামলা হয়। ওই হামলায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ বাবু। তাতে মতিউর রহমানসহ তার ৫ কর্মী-সমর্থক আহত হন। পরে এনিয়ে মামলা করেন তিনি।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :