মাছ কোম্পানির অ্যামোনিয়া গ্যাসে বিপন্ন গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কের সাচিবুনিয়া এলাকায় ফারুক সি ফুডের ফ্রিজিং পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। একেত গ্যাস লিকেজ, তার ওপর অপরিশোধিত পানির প্রভাবে এলাকার গাছ পালাতেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব। গ্যাস লিকেজ ও দূষিত পানি বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী মানববন্ধনও করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরেই সাচিবুনিয়া মোড়ের ফারুক সি ফুড কারখানা থেকে মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হওয়ায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশে। এছাড়া কারখানার দূষিত পানি পাশের খালে ফেলা হচ্ছে।

দুষণের ফলে কারখানা সংলগ্ন মহম্মোদনগর স্লুইচগেট খালে মাছ মরে ভেসে উঠছে, অনেকটা অংশে কচুরিপানা এমনকি গাছের পাতাও হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। দুর্গন্ধে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, সাচিবুনিয়া মোড়ের ফারুক সি ফুড কারখানা থেকে নির্গত মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস ও দূষিত পানির প্রভাবে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া আরো অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। শ্বাসনালী জ্বালা-পোড়া, চোখ ও নাক জ্বালা-পোড়া করা, মাথাভার, শরীরে চুলকানি হচ্ছে অনেকের।

khulna-amonia-gas

কারখানার পাশের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে এই গ্যাসের কারণে গ্রামের অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি। গ্যাস বের হওয়ার পরও কারখানার মেশিন চালিয়ে আরো দুর্গন্ধ বাড়িয়ে দিচ্ছে তারা।

এ ব্যাপারে খুলনার পরিবেশ অধিদফতর কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিলো না। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। অ্যামোনিয়া গ্যাস নির্গত হলে আক্রান্ত স্থানের জলজ প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ফারুক সি ফুডের জেনারেল ম্যানেজার খন্দকার নজরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার থেকে কারখানার ফ্রিজিং পাইপলাইনের একটি গ্রেট ভাল্বের নিচে ছিদ্র হয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। আমরা কারখানা বন্ধ রেখে কাজ করছি।

আলমগীর হান্নান/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :