কাঁদতে কাঁদতে নিজেদের কষ্টের কথা শোনালেন তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জীবন-সংগ্রামে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখা পাঁচ নারী হলেন ২০১৭-১৮ সালের বরিশাল বিভাগের সেরা জয়িতা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে এ পাঁচ জয়িতাকে সম্মাননা দেয় বিভাগীয় প্রশাসন।

পাঁচ নারী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তাদের জীবন সংগ্রামের কথা জানান অনুষ্ঠানে। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. রাম চন্দ্র দাস।

বিভাগের পাঁচ জয়িতা হলেন- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মাকসুদা বেগম, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামের প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্য্য, সফল জননী ঝালকাঠী শহরের রোনাসল রোডের আনোয়ারা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন জীবন শুরু করা পটুয়াখালী শহরের সবুজবাগ এলাকার হাসিনা আক্তার এবং সমাজ উন্নয়নে অনন্য অবদান রাখা বরগুনার তালতলী উপজেলার নমিষেপাড়া গ্রামের মায়া রাখাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস বলেন, দেশবাসী ভাগ্যবান। কারণ গত ১০ বছর ধরে দেশকে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই প্রধানমন্ত্রী নিজেই একজন জয়িতা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আগত অতিথিদের জীবন সংগ্রামের কথা শোনান পাঁচ জয়িতা। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অশ্রু থামাতে পারেননি পটুয়াখালীর জয়িতা হাসিনা আক্তার।

barisal-jayta-1

বড় বোনের মৃত্যু হলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হাসিনার বিয়ে হয়েছিল ভগ্নিপতির সঙ্গে। সেখানে সুখ না হওয়ায় ২২ দিনের শিশু সন্তানসহ বাবার বাড়িতে চলে আসেন হাসিনা। কিছুদিন পর বাবার মৃত্যু হলে সৎমায়ের নির্যাতন সইতে না পেরে হাসিনা ঢাকায় মামার বাসায় আশ্রয় নেন। সেলাইয়ের কাজ শিখে চাকরি নেন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায়। চাকরির পাশাপাশি লেখাপড়া করে তিনি এসএসসি পাস করে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি পান। তার মাস্টার্স পাস ছেলে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে সচিব পদে চাকরি করছেন।

উপজাতি মায়া রাখাইন বরগুনার তালতলীতে মহিলা উন্নয়ন নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে সেলাই ও তাঁতশিল্প প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করছেন।

নদীভাঙনে ভিটেহারা বাবুগঞ্জ উপজেলার মাকসুদা বেগম সবজি চাষ ও হাস-মুরগির খামার গড়ে এখন স্বাবলম্বী। কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি।

ঝালকাঠীর আনোয়ারা বেগম জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ৮ ছেলে ও ৩ মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে পা হারানো অদম্য প্রিয়ংবদা ভট্টাচার্য্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ায় সাহায্য করছেন।

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাশিদা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. মোশারফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান ও উন্নয়ন সংগঠক রহিমা সুলতানা কাজল প্রমুখ।

সাইফ আমীন/এএম/পিআর