সিলেটের ৫৯৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৮

আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।  এবার সিলেটের ৫৯৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

১৫ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়ে শেষ হবে ১৯ অক্টোবর মহাদশমী পূজার মধ্য দিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় এবার ৫৯৮ পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এর মধ্যে মহানগরে ১৩৩টির মধ্যে নগর এলাকায় ৬৩ মণ্ডপের মধ্যে ৪৮টি সার্বজনীন এবং ব্যক্তিগত ১৫টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে।

এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে সিলেটজুড়ে থাকবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কর্তব্য পালন করবেন। থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করবে প্রতিটি পূজামণ্ডপ এলাকায়। এছাড়া বখাটেদের উৎপাত ঠেকাতে পুলিশের নারী সদস্যরাও সাধারণ পোশাকে বিচরণ করবেন। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাতে কোনো গুজব না ছড়ায় তা তদারকি করবেন পুলিশের আইসিটি ইউনিটের চৌকস কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে ২৫ নির্দেশনা জারি করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এসবের মধ্যে চুরি ছিনতাইসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডরোধে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থার পাশাপাশি স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর ও হ্যাজাক লাইটের ব্যবস্থা রাখা, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার জন্য বলা হয়েছে। তারপরও কোনো ধরনের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেলে তাৎক্ষণিক জাতীয় হেল্প ডেস্ক নাম্বার ‘৯৯৯’ এ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।

গোপাল টিলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের প্রধান পুরোহিত রজত কান্তি চক্রবর্তী বলেন, ষষ্ঠীর দিনে দেবীকে বিল্লতলায় (বেল তলায়) বেল পাতা দিয়ে মর্ত্যলোকে আহ্বান জানাবেন পুরোহিতরা। সনাতন ধর্মমতে, এই পাঁচদিনের জন্যে এবার মর্ত্যলোকে ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে আসবেন দেবী। দশমীতে জল বিসর্জনায় শিবের সঙ্গে স্বামীর গৃহে ফিরে যাবেন পালকিতে সওয়ার হয়ে।

তিনি বলেন, দেবী অনেক রূপে আসেন। বৈষ্ণবী রূপে আসা শান্তির প্রতীক। আসুরিক শক্তিতে আসেন অসুর বদ করতে। ঘোটকে চড়ে আসা মানে ছত্রভঙ্গ তথা হানাহানি-মারামারির ইঙ্গিত বহন করে। পালকিতে সওয়ার হওয়া তথা গুপ্ত অপরাধের অশনি সংকেত। তাই বিসর্জনের পর প্রত্যেক মণ্ডপে শান্তির জন্য আরাধনা করবেন তারা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের দেড় সহস্রাধিক জনবল মাঠে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। মণ্ডপের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হবে।পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্যরাও মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। তিন স্তরে নিরাপত্তা ঢেলে সাজানো হয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুর্গোৎসবে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এরই মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। তবে কি পরিমাণ সদস্য মোতায়েন রাখা হবে তা জানাননি তিনি।

এ ব্যাপারে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে ৩০/৪০ জন ব্যাজধারী স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :