বরিশালে গায়েবি মামলায় গ্রেফতার আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
প্রতীকী ছবি

 

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত দুই সপ্তাহে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুটি থানায় বিএনপি-জামায়াতের ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অনেককে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলার কারণে অনেক নেতাকর্মীকে এলাকা ছেড়ে অনত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সমর্থক থেকে শুরু করে মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির প্রত্যেক নেতাকে মামলার আওতায় আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলাগুলো রেকর্ড করা হচ্ছে। পুলিশতো বাদী হয়ে মামলাগুলো করেনি। আসামি যেই হোক তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জসিম ফকির বাদী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা কাটা, বক্স কালভার্ট ভেঙে ফেলা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করাসহ জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃস্টির মাধ্যমে অন্তর্ঘাতি কার্যকলাপ এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় অন্যান্যদের মধ্যে লতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহিন, লতা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল হোসেন, ভাষারচন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আল-আমিন খান, একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শাহান শাহ, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জসিম, আন্দারমানিক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মৃদুল, বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক মহিউদ্দিন বাবুলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে একইভাবে গত ১১ অক্টোবর রাতে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আলতাফ সিকদার বাদী হয়ে স্থানীয় বিএনপির ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অনেককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য এজেন্টদের শনাক্ত করে এবং বিগত বিভিন্ন নির্বাচনে যারা বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এসব গায়েবি মামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনের সময়ে নেতাকর্মীরা যাতে মাঠে থাকতে না পারে।

তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় এমপির নির্দেশনায় মামলা দুটি হয়েছে। মামলার দুই বাদেই এমপির অনুসারী।

মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, গায়েবি মামলার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে। গ্রেফতার ও হয়রানি এড়াতে অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছাড়া।

মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর রশিদ জানান, সাধারণত কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা বা তাকে আটক করার কথা না। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলাগুলো রেকর্ড করা হচ্ছে। আসামি যেই হউক তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাইফ আমীন/আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :