ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর খুনি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১২:২০ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুর খুনি ভাড়াটিয়া শুটার রবিউল ইসলাম (২৮) পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোররাতে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পীরেরপারের ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, নিহত রবিউল ইসলাম মাদারীপুর জেলার কালকিনির কুকরির চর এলাকার লালচান মিয়ার ছেলে এবং রাজধানীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রামপুরা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে উজিরপুর থানা পুলিশের কনস্টেবল হুমায়ুন কবির ও কনস্টেবল রুবেল হোসেন আহত হয়েছেন।

উজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে জল্লা ইউনিয়নের কারফা বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অজ্ঞাত এক দুবৃর্ত্তর গুলিতে নিহত হন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু। দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে একজন নেমে নান্টুকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গুলি করে ফের মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর ঢাকার মোহম্মদপুর এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. শাকিল ইসলাম রাব্বী (২৫), মামুন শাহ (৩৫), কাউসার সেরনিয়াবাত ও এরশাদ এবং এজাহার বহির্ভূত কুদ্দুস হাওলাদার, হাদিরুল ইসলাম হাদী, দিপু ও সোহাগ। গ্রেফতাররা জন বিশ্বজিৎ হত্যকাণ্ডের মূল পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত।

barishal-Nantu-killer

জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে হত্যার জন্য ভাড়াটিয়া শুটার রবিউল ইসলামকে নিয়োজিত করা হয়েছিল। রবিউল ঘটনার দিন খুব কাছ থেকে গুলি করে নান্টুকে হত্যা করে।

ওসি শিশির কুমার পাল আরও জানান, সোমবার রাতে রবিউল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে মাদারীপুর বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় রবিউলকে। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল চেয়ারম্যান নান্টুকে নিজ হাতে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জল্লা এলাকায় তার আরও অস্ত্র রয়েছে বলেও জানান।

ওসি বলেন, মঙ্গলবার ভোর রাতে রবিউলের স্বীকারোক্তি আনুযায়ী তাকে সঙ্গে নিয়ে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পিরেরপারের ফুলতলা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রবিউলের সঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে । পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এ সময় রবিউল পালাতে গেলে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায়। একপর্যায়ে গোলাগুলি বন্ধ হয়ে গেলে রবিউলকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল , তিন রাউন্ড গুলি ও কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

সাইফ আমীন/আরএআর/পিআর