সিলেটে দুটি আসন পাচ্ছে জামায়াত, বিএনপিতে বিভক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৪:৪২ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপির পুরনো গ্রুপিং ও কোন্দল নতুন করে দেখা দিয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান আর সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীর অনুসারীদের দ্বন্দ্বের কারণে অনেক ভুগতে হয়েছে দলটিকে।

এরই মধ্যে সাইফুর রহমান মারা যান। পরে ইলিয়াস আলী ২০১২ সালে নিখোঁজ হন। এরপর দলে দুর্দিন নেমে আসে। তবু বিভেদ ঘোচেনি দলটির নেতাকর্মীদের। এবার সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুরনো কোন্দল নতুন করে দেখা দিয়েছে সিলেটের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে।

দলের মনোনয়ন পাওয়া দুই প্রার্থী ইনাম আহমদ চৌধুরী ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে-বিপক্ষে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন সিলেট বিএনপির নেতারা। এতদিন এ বিভক্তি আড়ালে থাকলেও শুক্রবার তা প্রকাশ্যে চলে আসে।

প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরীকে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দিতে শুক্রবার বিএনপির মহাসচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ দলটির ৫১ নেতা।

যাদের সকলে সাইফুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আবার সিলেট বিএনপিতে ইলিয়াস আলী অনুসারী হিসেবে পরিচিত নেতারা অবস্থান নিয়েছেন খন্দকার মুক্তাদিরের পক্ষে। ইলিয়াস অনুসারীরা মুক্তাদিরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপিতে ফের দেখা দিয়েছে সাইফুর-ইলিয়াস বলয়ের পুরনো বিভক্তি। নেতাদের এমন বিভক্তি নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। সে সময় সিলেট বিএনপিতে সাইফুর রহমান ও ইলিয়াস আলী অনুসারীদের মধ্যে বিভক্তি ছিল তুঙ্গে। সে নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে পরাজিত হয় বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫১ বিএনপি নেতা স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট-১ আসনে বিএনপি-আওয়ামী লীগ থেকে সবসময়ই হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনীত করা হয়। এবারও এ আসনে আওয়ামী লীগ জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি সাবেক সচিব অর্থমন্ত্রীর ভাই ড. একে আব্দুল মোমেনকে মনোনীত করেছে। আসন্ন নির্বাচনে আমাদের অভিমত হচ্ছে যদি এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হলে আসনটি আপনাকে উপহার দেয়া সম্ভব হবে।

তবে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক বলেন, খন্দকার মুক্তাদির তৃণমূলের নেতা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে পছন্দ করেন। তাকে সবসময় কাছে পাওয়া যায়। ফলে এ আসন পুনরুদ্ধারে মুক্তদারিকেই মনোনয়ন দেয়া প্রয়োজন।

গত সিটি নির্বাচন নিয়েও সিলেট বিএনপিতে বিভক্তি দেখা দেয়। আরিফুল হককে কেন্দ্র থেকে দলীয় মেয়র প্রার্থী করা হলেও মহানগর বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বিদ্রোহী প্রার্থী হন। পরে কেন্দ্রের চাপে সেলিম সরে দাঁড়ালেও আরিফের পক্ষে মাঠে নামেননি। এর আগে হেভিওয়েটের গ্যাঁড়াকলে পড়তে হয়েছিল খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আব্দুল মালিককে।

সিলেট-১ আসনে ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খন্দকার মালিক। তবে ১৯৯৬ সালে তাকে সরিয়ে প্রার্থী হয়ে সিলেটের রাজনীতির মাঠ দখলে নেন সাবেক অর্থমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম সাইফুর রহমান।

এদিকে, সিলেটে রয়েছে ছয়টি সংসদীয় আসন। এসব আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের প্রার্থী দেখতে চান জাতীয় নির্বাচনে। কিন্তু জোট-মহাজোটের সমীকরণে তাদের আশা পূর্ণতা পাচ্ছে না। বিএনপি সিলেটে দুটি আসন জোট শরিকদের ছেড়ে দিচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। বিএনপি জামায়াতকে দুটি আসনে ছাড় দিচ্ছে। জামায়াত এসব আসনে নিজেদের প্রার্থীও দিয়েছে। কিন্তু দলীয় প্রার্থী না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতাকর্মীরা শরিক দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নারাজ। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা যদি জোটের প্রার্থী হন, তারপরও তাদেরকে লড়াই করতে হবে একা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসন দুটি জামায়াতকে ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। ফলে সিলেট-৫ আসনে জামায়াত নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন ও সিলেট-৬ আসনে মাওলানা হাবিবুর রহমান জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন। এ নিয়েও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে।

ছামির মাহমুদ/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :