জোটে আছে ভোটে নেই জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

বিএনপির সঙ্গে ২০ দলীয় জোটে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে মাত্র একটিতেই জামায়াতকে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। আর একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। ফলে অন্যান্য আসনগুলোতে রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি কিংবা ভোটের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রচারণায় নেই জামায়াত।

জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আছেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান। ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন নিবন্ধন হারানো জামায়াতের এই প্রার্থী।

এর বাইরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে আপেল প্রতীকে লড়বেন দলের কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন হারুনুর রশীদ।

এছাড়া আপেল প্রতীকে পাবনা-১ আসনে ভোটে রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামির ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান। এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকে।

জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া দুটি আসনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনটি তাদের মূল টার্গেট। দলের প্রার্থীকে জেতাতে এই অঞ্চলের সব জনশক্তিকে মাঠে নামিয়েছে জামায়াত। এই অঞ্চলের নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে চাইছে দলটি।

নেতারা আরও জানিয়েছেন, রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের ১৮টিতে স্বতন্ত্র হয়ে ভোটের প্রস্তুতি নিয়েছিল জামায়াত। জোটের খাতিরে কয়েকটি আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দেননি জামায়াতের প্রার্থীরা। তাছাড়া নওগাঁ-৪ আসনে খ ম আব্দুর রাকিব এবং রাজশাহী-১ আসনে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জোটের খাতিরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে সিরাজগঞ্জ-৪ আসন জোটের জন্য ছাড় দেয় বিএনপি। ফলে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র হয়ে আরও দুটি আসনে রয়ে যান জামায়াতের প্রার্থীরা।

জামায়াত নেতারা বলছেন, যেসব এলাকায় তাদের প্রার্থীরা এখনও নির্বাচনে রয়েছে সেইসব এলাকায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এখন জামায়াত নেতারা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জামায়াতের জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক লতিফুর রহমান।

এখানকার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান পদ জামায়াতের দখলে। চার মেয়াদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর মেয়রও ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। এখানেও রয়েছে দলটির বিশাল ভোট ব্যাংক। তাছাড়া প্রার্থী হিসেবে নুরুল ইসলাম বুলবুল অনেক বেশি শক্তিশালী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার নেতাকর্মীরা এখন এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণায়।

তবে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেই গ্রেফতার হচ্ছেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। তফশিল ঘোষণার পর এই অঞ্চলের অন্তত ১০ জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে জেলার পুঠিয়া উপজেলার জামিরা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন পূর্ব জেলা জামায়াতের আমীর মকবুল হোসেন।

এর আগে ১৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোর উপজেলা জামায়াতের আমীর সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি জুয়েল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই দিনে জেলার দূর্গাপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মী শাহ-আলম, জাবের আলী, শাহাজাহান আলী ও জিল্লুর রহমান গ্রেফতার হন। গত ৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সেকেন্দার আলী গ্রেফতার হন।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাফর আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাফর আলী শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। গ্রেফতার ঝুঁকি এড়াতেই ধানের শীষের প্রচারণায় জামায়াত নেতাকর্মীরা নামছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জোটের প্রচারণায় জামায়াত নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। স্বতন্ত্র হয়ে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে বুলবুল বলেন, জোটের কাছে তারা এই আসনটিসহ রাজশাহী বিভাগে আরও বেশ কিছু আসন চেয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত একটি আসন ছাড় দিয়েছে বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র হয়ে তিনি নির্বাচন করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে। এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এতে জোটে এবং ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানান নূরুল ইসলাম বুলবুল।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, দেশের মানুষ চায় অবৈধ সরকারের বিদায়, স্বৈর শাসনের অবসান, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্র রক্ষায় জনগণ সংঘবদ্ধ হয়েছে আজ। এই সুদৃঢ় ঐক্যই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। ঐক্যবদ্ধভাবেই নির্বাচনে বিজয় ছিনিয়ে আনতে চায় বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :