সকালে ভোটকেন্দ্রে তর্কাতর্কি, রাতে গৃহবধূকে গণধর্ষণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ০১ জানুয়ারি ২০১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় স্বামীকে মারধর করে সন্তানসহ ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে (৪০) গণধর্ষণ ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাত ৯টায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এরই মধ্যে এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ৩০ ডিসেম্বর রোববার সকালে তিনি তার এলাকার ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে নৌকার কয়েকজন সমর্থক তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলেন। তিনি তখন ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। তখন তারা তাকে ‘তোর কপালে শনি আছে’ বলে হুমকি দেন। তখন তিনি কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এরপর রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে একই এলাকার ১০-১২ জন তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে বসতঘর ভাঙচুর করে।

একপর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্বামী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে তারা তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং গণধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে গলা কেটে হত্যার করতে উদ্যত হয়। এ সময় তিনি প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির উঠান সংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে।

ওই গৃহবধূর স্বামী দাবি করেন, রোববার রাতে এলাকার মোশারফ, সালাউদ্দিন ও সোহেলসহ ১০-১২ জন লোক ঘরদুয়ার ভাঙচুর করে ঘরে ঢুকে প্রথমেই তাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে তাকে ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ ও পিটিয়ে আহত করে। তার স্ত্রীর পুরো শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগও রয়েছে। তার স্বামীও একই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ভিকটিমের প্রাথমিক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরবর্তীতে বোর্ড টিম বসে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ বিষয়ে চরজাব্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রাতেই বাসু ওরপে বাদশা নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ওসি আরও বলেন, ভিকটিমের গায়ে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। তবে তিনি ধর্ষণ হয়েছেন কি-না তা ডাক্তারি রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে।

মিজানুর রহমান/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :