ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০১৯

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী তন্নী রায়কে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রেমিক রানু রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রেজাউল করিম এ রায় দেন।

আদালতের বিশেষ পিপি কিশোর কুমার কর জানান, মামলায় ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় দেন আদালত। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের এক বছর সাত মাস পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে আলোচিত মামলাটি সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তন্নী রায়ের বাবা বিমল রায় বলেন, আমার মেয়ে তন্নীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর দেড়টার দিকে তন্নী রায় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শহরতলীর বাংলা টাউনে ইউকে আইসিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেড় হয়ে আর বাসায় ফিরেননি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তন্নী রায়ের বাবা বিমল রায়। সাধারণ ডায়েরি করার তিনদিনের মাথায় কলেজছাত্রী তন্নীর বস্তাবন্দি মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

তন্নীর মরদেহ উদ্ধার এবং মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ ঘটনাস্থল এবং তন্নীর তথাকথিত প্রেমিক রানু রায়ের বাড়িসহ আশপাশের সম্ভাব্য ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালায়। নবীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে মামলার অগ্রগতি না আসলে মামলাটি হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশে স্থানান্তর করা হয়। তন্নী রায় হত্যাকাণ্ডের ২০ দিনের মাথায় (৭ অক্টোবর) ডিবি পুলিশের ওসি মো. আমিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রানুকে গ্রেফতার করে। পরে ওই বছরের ৮ অক্টোবর হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানার আদালতে ঘাতক রানু তন্নীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমকেএইচ