আতিয়া মহলে জঙ্গি হামলা : তিন জঙ্গি ৫ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১২:৪৮ এএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ‘আতিয়া মহলে’ সেনাবাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অপরেশন টোয়াইলাইটের পর এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই প্রথম আসামি হিসেবে এক নারীসহ তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) আতিয়া মহলে নিহত নারী জঙ্গি মর্জিনা বেগমের ভাই জঙ্গি জহুরুল হক, তার স্ত্রী বোন আর্জিনা বেগম ও হাসান নামের এ তিন আসামির পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ সিদ্দিকী। এই তিনজনই এর আগে বিভিন্ন জঙ্গি মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে বুধবার এ তিনজনকে ওই মামলার গ্রেফতার দেখানো হয়।

২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোর থেকে আতিয়া মহলে শুরু হওয়া জঙ্গিবিরোধী সেনাবহিনীর কমান্ডো অভিযান চলে ২৮ মার্চ পর্যন্ত। অভিযানে আতিয়া মহলের ভেতরে থাকা চার জঙ্গিই নিহত হন। অভিযান চলাকালীন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের মাত্র ৪০০ গজ দূরে দুটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়ে নিহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন।

এ সকল ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করে। একই বছরের ১৩ মে থেকে মামলা দুটি তদন্ত করছে পিবিআই।

পিবিআই সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান বলেন, এ দুটি মামলাতে এতদিন দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি ছিল না। তবে দীর্ঘ তদন্তে রিমান্ডে নেয়া তিন জঙ্গির ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে ওেয়া হয়েছে। বলতে পারেন আলোচিত এই মামলা এটিই প্রথম বড় অগ্রগতি।

তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার জহুরুল হক, আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযানে নিহত জঙ্গি মনজিয়ারা বেগম ওরফে মর্জিনা বেগমের ভাই এবং আর্জিনা বেগম জহুরুল হকের স্ত্রী। এই দুজনই চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড জঙ্গি আস্তানার মামলার আসামি। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত হাসান চান্দিনা ও মীরসরাই জঙ্গি মামলার আসামি।

এ তিনজনকেই আতিয়া মহলের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, তবে অপর মামলায় এখনো কোনো গ্রেফতার নেই, রিমান্ডের পর এরা ওই মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হতে পারে বলে জানান পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, প্রায় দুইমাস আগে তাদেরকে এ মামলায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আবেদন করে পিবিআই যা চট্টগ্রাম হয়ে সিলেট আদালতে আসে এবং রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আমরা ধারণা করছি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে সিলেট নগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকা আতিয়া মহল নামের একটি পাঁচতলা ভবনে জঙ্গি আস্তানা রয়েছে খবর পেয়ে ভবনটি ঘেরাও করে পুলিশ। পরদিন ২৪ মার্চ সারাদিন র‌্যাব, পুলিশ ও সোয়াতের অবস্থান শেষে ২৫ মার্চ সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২৮ মার্চ পর্যন্ত চলা এ অভিযান শেষে ভবন থেকে চার জঙ্গির মৃতদেহ এবং বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

ছামির মাহমুদ/বিএ