খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে দমকল বাহিনীর সদস্যদের কাণ্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৯

রেশন দিতে বিলম্বকে কেন্দ্র করে বরিশালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৫/৩০ জন সদস্য এসে বরিশাল সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কক্ষ ব্যাপক ভাঙচুর করে।

এ সময় ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর সদস্যরা তাদের পরিবহনের ভেপু বাজিয়ে ভাঙচুরের খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বান্দ রোডে সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর সদস্যরা অভিযোগ করেন, বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিনকে খাদ্য দফতরের কর্মচারীরা লাঞ্ছিত করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

barishal1

ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর সদস্য জামাল হোসেন বলেন, সদর স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের রেশনের চাল ও গম উত্তোলন করার জন্য খাদ্য অফিসে ৫ দিন ধরে তারা ঘোরাঘুরি করছেন। উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে নানান টালবাহানা করে তাদেরকে ঘোরানো হচ্ছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে তিনিসহ কয়েকজন সহকর্মী আবারও সদর উপজেলা খাদ্য অফিসে গেলে তাকে পরদিন আসতে বলেন। এতে ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর সদস্যরা ক্ষুব্ধ হলে তাদের সঙ্গে খাদ্য দফতরের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

তিনি বলেন, এ খবর পেয়ে সদর সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কক্ষে যান। ওই কর্মকর্তা তখন তার কক্ষে ছিলেন না। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সেখানে যাওয়ার পর খাদ্য অফিসের কর্মচারীরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে খাদ্য বিভাগের একজন অফিস সহায়ক চেয়ার দিয়ে স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিনকে আঘাত করেন।

barishal1

সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন জানান, প্রতিমাসে তারা সদর উপজেলা খাদ্য অফিস থেকে রেশন উত্তোলন করেন। গতমাসে তাদের রেশন কম দেয়া হয়। পরিমাপে কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আর রেশন দেবে না এবং দিলেও তাদের ভোগান্তিতে ফেলার কথা হুমকি দেয়। এই ধারাবাহিকতায় খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেশন আনতে গেলে খাদ্য বিভাগের কর্মচারীরা টালবাহানা শুরু করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে খাদ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাকে (আলাউদ্দিন) চেয়ার দিয়ে আঘাত করে। এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য সদস্যরা সদর খাদ্য অফিসে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

খাদ্য অফিসের আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দমকল বাহিনীর ৩টি গাড়িতে ভেপু বাজিয়ে ২০/৩০ জন সেখানে যায়। তারা খাদ্য অফিসের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, কক্ষের ভাঙা চেয়ারগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তছনছ করা হয়েছে কাগজপত্র।

barishal1

সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর সদস্যরা বিকেল ৩টার দিকে রেশন তুলতে আসে। তার আগেই গোডাউনের শ্রমিকরা চলে যাওয়ায় তাদেরকে পরদিন আসতে বলা হয়। এতে তারা ক্ষব্ধ হয়ে বাহিনীর অন্য সদস্যদের খবর দেয়। তারা সংঘবদ্ধভাবে ঢুকে কক্ষ ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের সময় তিনি জেলা অফিসে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে ফিরে এসে ভাঙচুর অবস্থায় কক্ষ দেখতে পান।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে । এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সাইফ আমীন/এমএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :