অল্প বেতনের কর্মচারীর কোটি টাকার সম্পদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পটুয়াখালী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিনের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কয়েক কোটি টাকার বেশি সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সোমবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী সদর থানায় মামলাটি করেন দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আরিফ হোসেন।

দুদকের মামলায় হিসাবরক্ষক এসএম শাহিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত দুই কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ টাকার অভিযোগ আনা হয়।

এসএম শাহিন ও তার স্ত্রীর নামে পটুয়াখালীর বাড়িসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হওয়ার প্রমাণ পেয়ে এ মামলা করে দুদক।

এর আগে এসএম শাহিন ও তার স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কয়েক কোটি টাকার সম্পদ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নোটিশ করে দুদক। নোটিশের জবাবে গত ১১ ডিসেম্বর এসএম শাহিন তার সম্পদ বিবরণী দুদকে জমা দেন। পরে দুদকের অনুসন্ধানে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।

এ ব্যাপারে জানতে পটুয়াখালী পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিন ও তার স্ত্রীর মুঠোফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।

মামলার পর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিনের সম্পদের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি হবে। তার দুর্নীতির সঙ্গে অনেক রাঘববোয়াল জড়িত। দুদক ভালোভাবে অনুসন্ধান চালালে সব রাঘববোয়াল ধরা পড়বে।

দুদকের মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিন ও তার স্ত্রীর আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ পেয়ে মামলা করেছে দুদক। মামলাটি দুদক তদন্ত করবে। সেই সঙ্গে তাদের গ্রেফতারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে দুদক।

jagonews

দুদকের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বলেন, পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক এসএম শাহিন ও তার স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কয়েক কোটি টাকার সম্পদ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করেছে দুদক। মামলায় শাহিনের আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ দুই কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি