মনোনয়ন পেয়েই দুদকে ধরা খেলেন আ.লীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ১০:০৫ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বহুল আলোচিত-সমালোচিত পাথর ব্যবসায়ী লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার বিকেলে ঢাকার রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাইদুজ্জামান। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০০৪ এর ২৬(২)/২৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

লিয়াকত আলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জৈন্তাপুর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। এরই মধ্যে লিয়াকত আলীসহ সিলেটের ছয় আওয়ামী লীগ নেতাকে রাজাকারপুত্র হিসেবে চিহ্নিত করে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা কমান্ড।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রেরিত ই-মেইল বার্তায় জানান, জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী জৈন্তাপুর এলাকার কুখ্যাত রাজাকার ওয়াজিদ আলী টেনাইর ছেলে। কিন্তু এর একদিন পরই লিয়াকতকে উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করে তালিকা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে জাফলংয়ের দুটি নদী ধ্বংস করা, পাথর কোয়ারি দখলে নিতে খুনের মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়, লিয়াকত আলীর দেয়া হিসাবের বাইরে লিয়াকত আলী আয়বহির্ভূতভাবে দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ২৩১ টাকা ২৬ পয়সার সন্ধান পেয়েছে দুদক। এসব টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন তিনি।

রমনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিয়াকত আলীর সম্পদ অনুসন্ধান করে প্রাথমিকভাবে অবৈধ সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুদক। সোমবার বিকেলে দুদকের উপ-পরিচালক সাইদুজ্জামান রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) প্রণব কুমার ভট্রাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লিয়াকত আলীর অঢেল সম্পদের অনুসন্ধান চালিয়েছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে তার দেয়া হিসাবের বাইরে দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ২৩১ টাকার সন্ধান পেয়েছে দুদক। মামলাটি তদন্ত করবে দুদক।

ছামির মাহমুদ/এএম/পিআর