ইউরিয়া সারের দামে তেলেসমাতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:১৭ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

তেলেসমাতি কাণ্ড ঘটছে ইউরিয়া সারের দাম নিয়ে। একেক ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে দাম একেক রকম। কেউ নিচ্ছে সাড়ে ৮শ, কেউ ৯শ, কেউবা হাজারের নিচে নামছে না। আবার যখন দেখে একটু সচেতন কৃষক তখন হয়ে যায় ৮শ টাকা বস্তা। এমন চিত্র সিরাজগঞ্জের পুরো কাজিপুরের চরবিড়া এলাকায়।

কাজিপুরের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ডিলাররা সারের উৎপাদন বন্ধ, পরিবহন খরচ বেশি অথবা সার সঙ্কটের কথা বলে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সারের অধিক মূল্য আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ১৭ জন বিসিআইসি ডিলার ও ৯৪ জন খুচরা সার ডিলার রয়েছেন। প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের বাজার মূল্য বস্তা প্রতি ৮শ টাকা করে বেধে দেয়া হয়েছে। চলতি মৌসুমে কাজিপুরে মোট ১২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাষের শুরু থেকেই সার দেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এ সুযোগে ডিলাররা সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছেন। আর সুযোগমতো চাষিদের কাছ থেকে বস্তা প্রতি ১শ থেকে ২শ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন।

উপজেলার সোনামুখী, ঢেকুরিয়া, উপজেলা সদর, নাটুয়ারপাড়া, মেঘাই সবত্রই একই চিত্র। একদিকে সারের কৃত্রিম সঙ্কট অন্যদিকে বেশি দামের কারণে চাষিরা ইরি-বোরে চাষে হিমশিম খাচ্ছেন।

ভেটুয়া গ্রামের সামাদ ও চরগিরিশ গ্রামের কৃষক ঠান্ডু মিয়া বলেন, ডিলারদের কাছে ঘুরে ঘুরে সার পাচ্ছি না। আমার কমপক্ষে ৭ বস্তা সার দরকার। খুচরা সার ডিলারের কাছ থেকে মাত্র তিন বস্তা সার পেয়েছি, তাও প্রতিবস্তায় ১শ টাকা করে বেশি দিয়ে। এ অবস্থা থাকলে চাষাবাদ করব কিভাবে?

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার জানান, বেশি ভাড়া দিয়ে সার আনতে হচ্ছে। তাই বেশি দামে সার বিক্রি না করে উপায় নেই।

এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সঙ্কট নেই। দাম বেশি নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পাইনি। পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :