প্রভাষকের কারের ধাক্কায় অধ্যক্ষ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে এক প্রভাষকের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শেখ ফজিলাতুননেছা ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ) মাওলানা শায়খুল ইসলাম (৫০) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা না-কি পরিকল্পিত হত্যা এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। নিহতের পরিবারের দাবি- পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মাওলানা শায়খুল ইসলাম সুনামগঞ্জের বিশ্বম্বরপুর থানার ফতেপুর ইউপির অনন্তপুর গ্রামের মৃত উস্তার আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের শেখ ফযিলাতুননেছা ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মাওলানা শায়খুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে মাদরাসায় যাওয়ার সময় বুরুঙ্গা সড়কের মুখে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একই মাদরাসার প্রভাষক (বাংলা) লুৎফুর রহমানের প্রাইভেটকার (সিলেট-হ-১২-০০৫৫) মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে শায়খুল ইসলাম মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় কারের চালক ও প্রভাষক লুৎফুর রহমান পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিহত প্রিন্সিপালের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এদিকে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দাবি করেছেন, প্রিন্সিপাল শায়খুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছেন প্রভাষক লুৎফুর রহমান। তারা প্রভাষক লুৎফুর রহমানের ফাঁসির দাবি জানান।

মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসায় অনুপস্থিতির কারণে কয়েকদিন আগে প্রভাষক লুৎফুর রহমানের বেতন কাটা হয়। এমনকি অর্ধ ও পূর্ণ বেতনে প্রায় ১৯ মাস মাদরাসা থেকে তিনি বহিষ্কার ছিলেন। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা হয়েছিল। পরে তা আপসে মীমাংসাও করা হয়। ঘটনার পর প্রিন্সিপাল শায়খুল ইসলামের মরদেহ সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী দেখতে এলেও প্রভাষক লুৎফুর রহমানকে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিহত শায়খুল ইসলামের চাচা শাহ আলম বলেন, আমার ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।

মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা আহমদ আলী হেলালী বলেন, আমরা ছাত্র-শিক্ষক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রিন্সিপাল শায়খুল ইসলামের খুনি লুৎফুর রহমানের ফাঁসি চাই।

এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে।

ছামির মাহমুদ/আরএআর/এমকেএইচ