আত্মসমর্পণকারী ১০২ ইয়াবাকারবারী সেফ হোমে

সায়ীদ আলমগীর
সায়ীদ আলমগীর সায়ীদ আলমগীর কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দেশে প্রথম বারের মতো আত্মসমর্পণ করা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অবশেষে কারান্তরিণ হয়েছেন। আত্মসমর্পণকালে হস্তান্তর করা সাড়ে তিনলাখ ইয়াবা ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্রের বিষয়ে পৃথক নতুন মাদক এবং অস্ত্র মামলায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন। শনিবার বেলা ১২টার দিকে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্বাবধায়ক (সুপার) বজলুর রশীদ আখন্দ ও জেলার রীতেশ চাকমা আত্মস্বীকৃত ১০২ ইয়াবা কারবারী সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারাগারে পৌঁছেছে বলে স্বীকার করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ইয়াবা ব্যবসায়ী কর্তৃক হস্তান্তর করা সাড়ে তিন লাখ ইয়াবা ও ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৭০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ জব্দ করার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। টেকনাফ থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেছেন এবং ওইসব মামলায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসব মামলার পাশাপাশি পুরোনো মামলাগুলোও তাদের মোকাবেলা করে আইনিভাবে শেষ করে আসতে হবে। সেখানে আইনসিদ্ধভাবে যতটুকু সম্ভব আহত্মসমর্পণকারীদের সহযোগিতা দেবে সরকার।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন, টেকনাফের পশ্চিম লেদা এলাকার মৃত হাজী আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল হুদা মেম্বার (৩৮), নাজিরপাড়া গ্রাামের মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বার (২৪), বেইগ্না পাড়া এলাকার মৃত মাস্টার ছৈয়দ আহম্মদ ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে দানু মেম্বার (৩৭), গোদার বিল এলাকার আলী আহম্মদ ছেলে আব্দুর রহমান (৩২) ও জিয়াউর রহমান (২৭), পশ্চিম লেদা এলাকার হাজী আবুল কাশেমের ছেলে নুরুল কবির (৩৫), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মৃত হাজী খায়রুল বশরের ছেলে ছৈয়দ আহম্মদ ওরফে ছৈয়তু (৫৬), নাজিরপাড়ার হাজী মো. ইসলামের ছেলে আব্দুর রহমান (৩০), টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শফিক (২৯), নাজিরপাড়ার হাজী কালামিয়ার ছেলে সৈয়দ হোসেন (৫৫), নাইটং পাড়ার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুছ (৪৮), পুরাতন পল্লান পাড়ার মৃত হাজী নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম (৩৫), আলীর ডেইলর হাজী খুইল্লা মিয়ার ছেলে জাফর আলম (৪৩), জাহাজপুরার মৃত হাজী আব্দুস শুক্কুরের ছেলে নুরুল আলম (২৬), হ্নীলা পশ্চিম সিকদার পাড়ার মৃত হাজী খায়রুল বশরের ছেলে রশিদ আহম্মদ ওরফে রশিদ খুলু (৫৪), হ্নীলা ফুলের ডেইল এলাকার মৃত ছৈয়দুল আমিনের ছেলে রুস্তুম আলী (৩৫), জুমপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শফি উল্লাহ (৩৮), মনতোলিয়া পাড়ার মোহাম্মদ ইসলামের ছৈয়দ আলম (৪০), উত্তর লম্বরীর মৃত মিয়া হোসেনের ছেলে আবদুল করিম মাঝি (৪০), রাজারছড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (২৪), জাহেলিয়া পাড়ার শামছু মিয়ার ছেলে মো. সিরাজ (২৮), কচুবনিয়ার আবদুল খালেকের ছেলে আ. হামিদ (৩৫), নাজিরপাড়া মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রফিক (৩২), নতুন পল্লানপাড়ার মো. সালামের ছেলে মো. সেলিম (৩২), নাইট্যংপাড়ার আমিন শরীফের ছেলে মো. রহিমুল্লাহ (২৯), নাজিরপাড়ার নুরুল আলমের মো. হেলাল (৩২), চৌধুরী পাড়া গ্রামের মৃত মোজাহার মিয়ার ছেলে মো. আলম (৪৫), হ্নীলা পূর্ব পানখালী এলাকার মৃত আবুল হাসানের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫২), তুলাতলী গ্রামের হাজী মোজাফফর আহম্মদের ছেলে নুরুল বশর ওরফে কালা ভাই (৪০), হাতিয়ার ঘোনার মো. ছিদ্দিকের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৪), হাতিয়ার ঘোনা, করাচিপাড়ার আবদুল হাকিমের ছেলে মো. হাছন (৩২), মুন্ডার ডেইল গ্রামের মো. আব্দুর রহমানের ছেলে মো. সাহেদ রহমান নিপু (৩৩), শিলবুনিয়া পাড়ার হায়দার আলীর ছেলে কামরুল হাসান রাসেল (৩৫), ওলিয়াবাদ এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে আমিনুর রহমান ওরফে আব্দুল আমিন (৪১), একই গ্রামের মৃত ইব্র্রাহিম খলিলের ছেলে মারুফ বিন খলিল ওরফে বাবু (৩০), আলীর ডেইলের মৃত নজির আহম্মদের ছেলে সাহেদ কামাল (৩২), দক্ষিণ নয়াপাড়ার সোনা আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪২), সদর কচুবুনিয়া এলাকার হাকিম আলীর ছেলে বদিউর রহমান (৪৭), চৌধুরী পাড়ার মৃত এজাহার মিয়া ছেলে ফয়সাল রহমান (২৯), চৌধুরী পাড়ার মৃত অংছেন ছার ছেলে মং সং থেইন ওরফে মমচি (৪৮), কুলাম পাড়া এলাকার মো. ইউনুচ নুরুল বশরের ছেলে নুরশাদ কাউন্সিলর (৩১), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার হাজী ওসমান গণির ছেলে জুবাইর হোসেন (৩০), পূর্ব লেদার মৃত লাল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৮), আলী খালী এলাকার মৃত হায়দার আলীর ছেলে মো. জামাল মেম্বার (৫২), উত্তর লেঙ্গুর বিল এলাকার জাফর আহম্মদ চেয়ারম্যানের ছেলে দিদার মিয়া (৩৫), মধ্যম জালিয়া পাড়ার আ. গফফারের ছেলে মোজাম্মেল হক (২৮), মৌলভীপাড়ার ফজল আহম্মদের ছেলে একরাম হোসেন (২৫), ডেইল পাড়ার মো. আলীর ছেলে আব্দুল আমিন (৩৪), উত্তর পাড়া, ৮নং ওয়ার্ড, শাহ পরীর দ্বীপ এলাকার মৃত এবাদুল হকের ছেলে রেজাউল করিম মেম্বার (৩৪), উত্তর আলী খালী এলাকার জামাল মেম্বারের ছেলে শাহ আজম (২৮), দক্ষিণ নয়াপাড়ার মৃত মো. আব্দুল্লাহর ছেলে আলমগীর ফয়সাল ওরফে লিটন (৩০), মধ্যম ডেইলপাড়া হাজী মো. শরীফ মো. আব্দুল্লাহ (৩৬), উত্তর শীলখালী এলাকার সোনালী মেম্বারের ছেলে মো. আবু ছৈয়দ (২৫), জাদিমুরা এলাকার আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. হাসান আব্দুল্লাহ (৩৪), উত্তর শীলখালীর সোনালী মেম্বারের ছেলে মো. আবু ছৈয়দ (২৫), জাদিমুরা গামের আবুল মঞ্জুরের ছেলে মো. হাসান আব্দুল্লাহ (৩৪), ঝিনাপাড়ার মৃত মো. কাসেমের ছেলে আলী আহম্মদ (৩৫), মন্ডার ডেইল গ্রামের কবির আহম্মদের ছেলে মো. সাকের মিয়া ওরফে সাকের মাঝি (২৮), রাজার ছড়া এলাকার মো. কাশেমের ছেলে হোসেন আলী (২৭), দক্ষিণ নয়াপাড়ার মু. মৌলভী আলী হোসেনের ছেলে মো. তৈয়ব (৪৬), উত্তর জায়িলাপাড়ার মৃত সৈয়দ নুরের ছেলে নুরুল বশর মিজি (৫৫), নাজিরপাড়ার মৃত কালা মিয়ার ছেলে জামাল হোছাইন (৫৩), মৌলভী পাড়ার মৃত হাজী কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৭), মৌলভী পাড়ার মৃত নুরুল হকের ছেলে আ. গনি (৩৩), উত্তর জালিয়াপাড়ার মৃত হাছান আলীর ছেলে মো. হাশেম ওরফে আংকু (৩৮), শামলাপুর জুমপাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে শফিউল্লাহ (৩৮), ফুলের ডেইলের দিলদার আহমদের ছেলে আবু তৈয়ব (৩১), মৃত হোসেনের ছেলে আলী নেওয়াজ (৩১), পশ্চিম লেদার আবদুল কাদেরের ছেলে জহুর আলম (৩০), পূর্ব লেদার মৃত কামাল হোসেনের ছেলে মো. হোসেন (৩৫), বড় হাবিরপাড়ার মৃত আমির আলীর ছেলে মো. ছিদ্দিক (৩৪), দক্ষিণ লেদার মৃত হামিদ আলীর ছেলে হামিদ হোসেন (৩৪), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মুহাম্মদ রফিকের ছেলে মো. আলম (৩৫), মুক্তার ডেইল এলাকার মো. আয়ুব (৩৫), মৃত ফজলের ছেলে মো. রাসেল (২৮), নুরুল আমন (৩৫), পশ্চিম লেদার বাসিন্দা ও বর্তমানে কক্সবাজার শহরে অবস্থান কারি বোরহান উদ্দিন (৩৪), মাঠপাড়ার আজিজুর রহমানের ছেলে কামাল হোসেন (২৬), দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার ওসমানগণির ছেলে ইমাম হোসেন (৩০), আলীখালীর রশিদ মিয়ার ছেলে হারুন (২০), কাটাবনিয়ার আবদুল মালেকের ছেলে শওকত আলম (৩০), সাবরাং চান্দুরি পাড়ার মোক্তার আহমদের ছেলে হোসাইন আহমদ (২৬), নাইটংপাড়ার আবদু রশিদের ছেলে আয়ুব (২৮), উত্তর শীলখালীর সোনাআলী মেম্বারে ছেলে আবু ছৈয়দ (২৬), আমিন শরীফের ছেলে রহিম উল্লাহ (২৯), নাজিরপাড়ার মৃত আবুল কামের ছেলে মো. রফিক (৩২), নতুন পল্লানপাড়ার ছালামের ছেলে সেলিম (৩২), দক্ষিণ নয়াপাড়ার সোনা আলীর ছেলে রুে মোহাম্মদ (৪২), তোলাতলীর হাজী মোজাফ্ফরের ছেলে নুরুল বশর (৪০), চৌধুরীপাড়ার মৃত অংছেন ছেলে মমচি (৪৮), নাজিরপাড়ার নুরুল আলমের ছেলে হেলাল (৩২), কচুবনিয়ার হাকিম আলীর ছেলে বদিউর রহমান (৪৭), উত্তর লম্বরীর মিয়া হোসেনের ছেলে আবদুল কমির মাঝি (৪৬), জুমপাড়ার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে ছৈয়দ আলম (৪০), হাতিয়ারঘোনার আ. হাকিমের ছেলে হাসান(৩২), জাহাজপুরার হাজি আবদু শুক্কুরের ছেলে নুরুল আলম(২৬), রাজারছরার মোহাম্মদ আলীর চেলে আবদুল কুদ্দুস (২৪), হাতিরঘোনার মো ছিদ্দিকের ছেলে দিল মোহাম্মদ (৩৪), ঝিনাপাড়ার মৃত কাশেমের ছেলে আলী আহমদ (৩৬), মুন্ডার ডেইলের কবির আহমদের চেলে সাকের মাঝি (২৮), দক্ষিণ নয়াপাড়ার আলমগীর ফয়সাল (৩০), পূর্ব লেদার মৃত লাল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৮), নাজিরপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আলম(৩৮), শাহপরীরদ্বীপের মৃত আলকাছের ছেলে সামশুল আলম শামীম (৩৫), মিঠাপানিরছরার নুরুল হকের ছেলে মো. ইউনুস (২২), পশ্চিম পানখালীর মৃত অলি আহমদ লালমিয়ার ছেলে নুরুল আফছার (৪২) ও কক্সবাজারের ইয়াবা ডন সদরের ঝিলংজা ইউপির পশ্চিম লারপাড়ার নুর মোহাম্মদ আনসারীর ছেলে শাহজাহান আনসারী (৩৮)।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

প্রধান আলোচক ছিলেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেন্ঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন এন্ড ক্রাইম) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ, কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলম, আশেকউল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল, শাহীন আক্তার চৌধুরী, বিজিবি’র রিজিওনাল চিফ, ব্যাটালিয়ন চিফ, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুুজিবুর রহমান রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করেছেন দেশের প্রচলিত আইনে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে। প্রয়োজনে তাদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন বলে কথা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় কক্সবাজার জেলায় এক হাজার ১৫১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছেন। এদের বেশিরভাগ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের। ইয়াবার বিরুদ্ধে গত বছরের ৪ মে থেকে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান।

এখন পর্যন্ত সীমান্তে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন ৪২ কারবারী। এর মধ্যে ৩৭ জনই টেকনাফের। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৭৩ জন গডফাদারের মধ্যে মাত্র চারজন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এটি দেখেই প্রাণ বাঁচাতে ইয়াবায় অভিযুক্তরা আত্মসমর্পণ করতে সেফহোমে যান। এবং দীর্ঘ প্রতিক্ষা শেষে শনিবার তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ইয়াবা তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং পরে কারান্তরিণ হলেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/এমকেএইচ