প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করলে এক জোড়া জুতাও চুরি হতো না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৪৪ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় দেব না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমান।

তিনি বলেন, অন্যদিক দিয়ে লাইন করে কেউ নেতা হতে চাইলে পারবেন না। এই হাতের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে কেউ নেতা হতে পারবেন না। একসঙ্গে চলব, একসঙ্গে বাঁচব এবং একসঙ্গে মরব।

শনিবার বিকেলে ফতুল্লার নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শামীম ওসমান বলেন, কিছু কিছু লোক চেষ্টা করবে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির। অভিযোগ থাকলে আমাকে বলবেন। দ্বন্দ্ব কেউ করবেন না। দলের সমস্যা দলের সিনিয়র নেতারা সমাধান করবেন, বাইরের কেউ এসে সমাধান করবে না।

recived

তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করেন শেখ হাসিনার সরকারকে আমরা ক্ষমতায় বসিয়েছি, তাহলে তাদের বলব, আপনারা এই কথা মনে করবেন না। অন্তত নারায়ণগঞ্জে যেন এই কথা কেউ মনে না করেন। নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলে রাখার ক্ষমতা আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা কারো ওপর ভরসা করে আওয়ামী লীগ করি না। আমরা কেবল শেখ হাসিনার নির্দেশেই চলি।

শামীম ওসমান বলেন, মানুষ যেভাবে আমাদের বিজয়ী করেছে তাই আমাদের দায়িত্ব এখন দশগুণ বেড়ে গেছে। মানুষ উন্নয়ন চায়, কিন্তু উন্নয়ন বেসিক না। মানুষ মূলত চায় সুশাসন। সুশাসনের মূল ভিত্তি হচ্ছে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি সমাজ ব্যবস্থা। এই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসন একটা অংশ। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে আওয়ামী লীগকেই। অন্য কেউ এটা করবে না।

তিনি আরও বলেন, আমি প্রতিটা ঘরে ঘরে যাব। পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল নম্বরের তালিকা জনগণের ঘরে ঘরে দিয়ে আসব। যাতে আশেপাশে কোনো দুর্নীতি দেখলে প্রশাসনকে দ্রুত জানাতে পারে যে কেউ।

recived1

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের সামনেই আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি নেয়নি। কেননা যে মন্ত্রিসভার প্রধান শেখ হাসিনা, সেখানে মন্ত্রী হওয়ার মতো উপযুক্ততা আমার হয়নি। আমি দূরে যেতে চাই না। আমি আমার নারায়ণগঞ্জে থাকতে চাই। চাওয়া-পাওয়ার আশা করি না। তাই আমি কাউকে ট্যাক্স-টোকেন দিয়ে রাজনীতি করব না।

শামীম ওসমান বলেন, যারা দিনের বেলায় বিএনপি আর রাতের বেলায় জামায়াত করে না, তারাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে থাকবে। এটাই আমার শেষটাইম আগেও বলছি, এখনও বলছি। তাই অরিজিনাল আওয়ামী লীগের হাতেই দায়িত্ব দিয়ে বিদায় নিতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আপনি যত ত্যাগী নেতাই হোন না কেন, যত বড় নেতাই হোন না কেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে থাকলে তার দায় দায়িত্ব আমরা নেব না। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে বলাটা যত সহজ, করাটা তার চেয়েও কঠিন। সমাজকে পরিষ্কার করা সহজ আবার কঠিনও। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অনেক সময় রক্ষকই ভক্ষক হয়ে যান। আমার বিশ্বাস প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করলে কোনো মসজিদ থেকে এক জোড়া জুতাও চুরি হতো না।

recived2

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, জেলা আদালতের পিপি ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজেদ আলী খোকন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ভূইয়া প্রমুখ।

শাহাদাত/এএম/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :