তালাকের কথা বলায় প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৮:৫৫ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দক্ষিণ ছিলোনিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী হায়তুন্নবীর স্ত্রী ফারজানা আক্তার (২৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় একই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের ভাবকপাড়া গ্রামস্থ বাবার বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে লাকসাম থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ৫ থেকে ৬ বছর আগে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলোনিয়া গ্রামের মৃত ছফর আলী মুন্সীর ছেলে সৌদি প্রবাসী হায়াতুন্নবীর সঙ্গে একই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের ভাবকপাড়া গ্রামের আবদুল মমিনের মেয়ে ফারজানা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ফারহান (৪) ও নাফিসা (২) নামে দুই সন্তান রয়েছে। গত সোমবার ফারজানা দুই সন্তান নিয়ে বাবা আবদুল মুমিন ও মা কোহিনুর বেগমের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন। গতকাল বুধবার দুপুরে শ্বশুড়বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে মোবাইলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানিয়ে দেয় যে, তাকে তালাক দেবে স্বামী। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের সিলিংয়ে সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারজানা।

নিহতের ফারজানার ভাই শাহপরান বলেন, কিছুদিন ধরে ফারজানার নিয়মিত খরচের টাকা নিয়ে ঝামেলা করে আসছে তার স্বামী। গত সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ফারজানা আমাদের বাড়িতে আসার পর তার স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বুধবার সকালে ফারজানা শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে তার শাশুড়ি ও ননদ তার স্বামীর বরাত দিয়ে বলে ‘তোমার আসার দরকার নেই, হায়াতুন্নবী তোমাকে তালাক দিয়ে দেবে। তালাকের কাগজ পাঠিয়ে দেবে।’ এ খবর শুনে সে কান্নাকাটি শুরু করে। এসবের জেরে আমাদের সকলের অগোচরে ফারজানা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আমরা তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিচার চাই। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করবো।

লাকসাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোজ কুমার দে বলেন, মরদেহটি বৃহস্পতিবার মর্গে প্রেরণ করা হবে। কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কামাল উদ্দিন/আরএআর/জেআইএম