একজনের মাথা ফাটানোর মামলায় ৯৪ জন আসামি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের রাজঘর গ্রামে একজনের মাথা ফাটানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ওই ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্মআহ্বায়ক শেখ শাহনূর বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

আসামিরা সবাই রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা। এদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ যাচাই না করেই মামলাটি এফআইআর করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাজঘর গ্রামের আমতলি বাজারের পাশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী আমিনুল হাসান বিপ্লবের দোকানের ভাড়াটিয়া ইয়াছিনের কাছে চাঁদা চায় যুবলীগ নেতা শেখ শাহনূর। ইয়াছিন বিষয়টি বিপ্লবকে জানালে তিনি ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজঘর গ্রামের কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে একটি চায়ের দোকানে শাহনূরকে ডেকে পাঠান। শাহনূর সম্পর্কে বিপ্লবের ফুফাতো ভাই। বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে বিপ্লব পানির গ্লাস দিয়ে শাহনূরের মাথায় আঘাত করেন। এতে শাহনূরের মাথা ফেটে যায়। এ ঘটনার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি বিপ্লবসহ রাজঘর গ্রামের ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৯৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন শাহনূর।

মামলায় বিপ্লবসহ বাকি আসামিরা গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা করে স্থানীয় ছাওয়াল মিয়ার ছেলে ইসরাইলকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শাহনূর আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে দিয়েছেন বলে তাকে প্রাণে মারার হুমকি দেন আসামিরা। এরই জের ধরে গত ৭ ফেব্রুয়ারি আসামিরা সবাই মিলে শাহনূরকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে হামলা করে। এ হামলায় শাহনূর তার মাথায় গুরুতর জখম হন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তবে মামলাটি ‘ভুয়া’ দাবি করে ৭ ফেব্রুয়ারির ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. হোসেন জানান, ভাড়াটিয়া ইয়াছিনের কাছে চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে শাহনূরকে ডাকেন বিপ্লব। এ সময় শাহনূর উত্তেজিত হয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে বিপ্লবের শার্টের কলারে ধরেন। পরে রাগের মাথায় বিপ্লব একটি গ্লাস দিয়ে শাহনূরের মাথায় আঘাত করেন। এতে শাহনূরের মাথা ফেটে যায়।

শাহনূরের মাথা ফাটানোর বিষয়টি স্বীকার করে মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, শাহনূরকে আমি মেরেছি। যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত না। মামলা করলে আমার নামে করুক।

এদিবে শাহনূরের মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন আসামিরা। ঘটনার কিছু জানেন না এমন অনেককেই মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ জানান, মামলাটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পুলিশ যাচাই না করেই মামলাটি এফআইআর করেছে।

নাটাই (উত্তর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল্লাহ্ বাহার জানান, ঘটনার পরদিন সকালে বাজারে গিয়ে শুনেছি বিপ্লব ও শাহনূরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। যাদেরকে মামলায় আসামি করা হয়েছে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বাদী যে এজাহার দিয়েছেন সেভাবেই মামলা হয়েছে। কেউ কি মার্ডার করে বলে আমি আসামি? বাকিটা তদন্ত করে বলা যাবে।’

আজিজুল সঞ্চয়/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :