নৌ-বাহিনীর সৈনিককে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দিল না দুর্বৃত্তরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কুমিল্লায় মেহরাব হোসেন (২৩) নামে নৌ-বাহিনীর এক সৈনিককে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার ঘটনার রহস্য বের করতে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ির অদূরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভাংতি গ্রামের গোমতী নদী থেকে ওই সৈনিকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি খুলনা থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রামে যোগদানের পর একদিনের ছুটি নিয়ে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে আসার পর বাড়ি পৌঁছার আগেই পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যা করে। নিহত সৈনিক মেহরাব ওই গ্রামের প্রবাসী সফিকুল ইসলামের ছেলে। এদিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনির নামে সিএনজি চালিত এক অটোরিকশা চালককে আটক করেছে। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানা পুলিশের ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস।

পুলিশ ও মেহরাবের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষায় পাসের পর গত বছরের জানুয়ারিতে নৌ-বাহিনীতে নাবিক (সৈনিক) পদে যোগ দেন মেহরাব হোসেন। এক বছর খুলনায় প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি চট্টগ্রামে বদলি হন। একদিনের ছুটি নিয়ে তিনি মা ও স্বজনদের দেখার জন্য বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে বাড়ি রওয়ানা দেন। রাতে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এসে বাস থেকে নামার পর সিএনজিযোগে তার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে বাড়িতে আনতে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোচালক মনিরকে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি আর বাড়ি পৌঁছাননি। সিএনজি চালক মনিরও ওই রাতে তাকে (মেহরাব) আনতে যায়নি বলে দাবি করেছে।

এ দিকে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মেহরাবের বাড়ির অদূরে গোমতী নদীর তীরে লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা পরিবারের লোকজন লাশটি মেহরাবের বলে শনাক্ত করে। পরে পুলিশ মেহরাবের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে খবর পেয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও সিআইডি, পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহত মেহরাবের মেজ ভাই সোহরাব হোসেন জানান, বুধবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে বাসযোগে আমার ভাই (মেহরাব) কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার পর আমাকে ফোন করেছিল। আমি তাকে বলেছিলাম ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছার পর বাস থেকে নেমে যেন সে সিএনজিযোগে বাড়ি চলে যায়। কিন্তু রাত ১২টার পর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারিনি। এতে আমরা তাকে বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করি।

তিনি বলেন, আমার ভাই গত মাসেও বাড়িতে বেতন পাঠিয়েছিল, আমরা তার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখছিলাম। পরিবারে ৩ ভাইয়ের মধ্যে মেহরাব সকলের ছোট, বাবা সফিকুল ইসলাম ও বড় ভাই প্রবাসে রয়েছেন। এ দিকে হত্যাকাণ্ডের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল ও নিহত মেহরাবের বাড়িতে ভিড় জমায়। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

বিকেলে বুড়িচং থানা পুলিশের ওসি আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নিহতের পরিবার মনির নামের স্থানীয় যে সিএনজি চালককে ভাড়ায় ঠিক করেছিল ঘটনার রাতে সে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় যায়নি বলে দাবি করলেও ওই রাতে তার অবস্থান কোথায় ছিল এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সৈনিক মেহরাবকে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। দুর্বত্তরা নিহতের মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ অন্যান্য মালামাল লুটে নিয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও ঘাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :