চার জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৫

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
ফাইল ছবি

কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, কক্সবাজার ও খুলনায় পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত ও শুক্রবার ভোরে এসব বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা

কুমিল্লার তিতাসে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. আল-আমিন নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলার তিতাস উপজেলার ঝড়িকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, একটি এলজি ও ৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। নিহত আল-আমিন ওই উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের মাঈনুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের রিয়াজ ট্রেডের ৫ জন সেলসম্যান সিএনজি অটোরিকশাযোগে বৃহস্পতিবার সকালে টাকা নিয়ে হোমনা যাওয়ার পথে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাস উপজেলার দড়িকান্দি সেতু অতিক্রম করার সময় একদল ছিনতাইকারী তাদের কাছ থেকে বিকাশ ডিলারের ৫৮ লাখ টাকা ছিনতাই করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের ২ সদস্যকে ১৫ লাখ টাকাসহ আটক করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতে আটক আল-আমিনকে সঙ্গে নিয়ে জেলা ডিবি পুলিশ ও তিতাস থানা পুলিশ অবশিষ্ট টাকা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিতাসের দড়িকান্দি নামক এলাকায় পৌঁছালে একদল ডাকাত পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে আল-আমিনকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়লে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

তিতাস থানা পুলিশের ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম জানান, ডাকাতদের একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আল-আমিনের ওপর পড়ে। এতে সে আহত হয়। এ সময় আমরা তাকে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আব্দুর রশিদ (৫০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পুলিশ লাইন হাসপাতাল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, নিহত রশিদ একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক, বিস্ফোরকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। আব্দুর রশিদ শহরের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ শহরের ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হোমিও মেডিকেল কলেজ মাঠে কিছু মাদক ব্যবসায়ী মাদক কেনাবেচা করছে- এমন সংবাদে সেখানে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রশিদ নামের একজনকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা কারবারী ও এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া ও সাবরাং কাটাবুনিয়া এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় বিদেশি অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে।

নিহত ইয়াবা কারবারী বেল্লাল হোসেন (২৫) লক্ষ্মীপুর সদর থানার জিএমহাট শাকচর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে আর অপর নিহত ডাকাত নুরুল আলম (৩৮) টেকনাফের হ্নীলা মুছনী রেজিস্ট্রার ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা মৃত মুহাম্মদ হোসেন ওরফে লাল বুইজ্জার ছেলে। তিনি আনসার কমান্ডার আলী হোসেন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মরিচ্যা চেকপোস্ট থেকে বেল্লাল হোসেনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, আজ ভোরে সাবরাং ইউপির কাটাবুনিয়া এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এ সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির নায়েক হাবিল উদ্দিন এবং কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন-৩৪ বিজিবির নায়েব সুবেদার ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে যৌথ টহলদল তাকে নিয়ে উল্লেখিত এলাকায় গিয়ে ওৎ পেতে থাকে। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাটাবুনিয়া এলাকায় একদল ব্যক্তিকে দেখে যৌথ টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। যৌথ টহলদলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা মাত্রই চোরাকারবারীরা টহলদলের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এ সময় বিজিবির যৌথ টহলদল আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গুলির শব্দ থামার পর ভোরের আলোতে যৌথ টহলদলের সদস্যরা এলাকা তল্লাশি করে বেল্লাল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। ঘটনাস্থল হতে ৯ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলম নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া এলাকায় এ গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে র‍্যাব-১৫’র সদস্যরা।

র‍্যাব-১৫’র অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানান, ডাকাতদলের উপস্থিতি টের পেয়ে টেকনাফের দমদমিয়ায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব সদস্যরাও গুলি করে। এতে ডাকাতদল পিছু হটলে ঘটনাস্থলে শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত এবং নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্প লুঠ ও আনসার কমান্ডার হত্যাকারী নুরুল আলম ডাকাতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগজিন ও ১৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

খুলনা

খুলনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’মাদক ব্যবসায়ী মাসুদ রানা (৩৫) ওরফে মাসুদ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৩টার দিকে নগরীর নিরালা কবরস্থান সংলগ্ন দীঘির পাড় এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশি পাইপগান, ১টি চাপতি, ১টি বড় ছোরা ও ১০০পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।

কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিরালা দীঘির পাড় কবরস্থান এলাকায় মাদক উদ্ধারে অভিযান চালায় সদর খানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলিতে মাসুদ রানা নিহত হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি নগরীর কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় অসংখ্য মামলা রয়েছে। মাসুদ খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে।

এফএ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :