সারিয়াকান্দিতে নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন এমপি ও তার স্ত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৯:৪২ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৯
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুনজিল আলী সরকার

সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপির স্ত্রী সাহাদারা মান্নান স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে নানাভাবে হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বামী সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের এমপি আব্দুল মান্নানের ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে নেতা-কর্মীদেরকে নৌকা মার্কার বিপক্ষে কাজ করতে বাধ্য করছেন সাহাদারা মান্নান। কেউ মানতে না চাইলে তাকে প্রশাসনিক হয়রানি ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার।

শুক্রবার বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ফারাজি, বর্তমান-সহ সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য রেজাউল করিম মন্টু, পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন, থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলী আজগর প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে মুনজিল আলী বলেন, আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। কিন্তু শুরু থেকেই তাকে বগুড়া- ১ আসনের এমপি আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নানের প্রত্যক্ষ বিরোধিতা ও নির্যাতনের স্বীকার হতে হচ্ছে।

কারণ দলীয় প্রার্থী হিসেবে সাহাদারা মান্নান নিজেই নিজের একক নাম কেন্দ্রে প্রেরণ করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড সাহাদারা মান্নানকে বাদ দিয়ে তাকে মনোনয়ন দেয়। এতে এমপি মান্নান ও তার স্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এমপি মান্নান যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস ছালামকে তাদের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, মুনজিল সরকারকে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে দল দেয়নি। তাই সারিয়াকান্দি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আব্দুস ছালামের নাম ঘোষণা করা হলো। এরপর এমপি মান্নান ঢাকায় চলে গেলেও তার স্ত্রী এলাকায় থেকে আব্দুস ছালামের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুনজিল আলী সরকার অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে গুজব ছড়ায় কামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতকে অপহরণ করতে গিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ ফারাজী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলমগীর শাহী সুমন গ্রেফতার হয়েছেন। অথচ হেদায়েত চেয়ারম্যান সকাল ৯টা থেকে নিজ বাড়িতেই সাহাদারা মান্নানকে নিয়ে মিটিং করেছেন।

এ সময় প্রভাবশালী মহল এরকম গুজব ছড়িয়ে সত্যি সত্যিই কাউকে গুম করে তাকে এবং তার কর্মীদের উপর দায় চাপাতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেন মুনজিল আলী।

তিনি বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন, এমপির স্ত্রী সাহাদারা মান্নানের নেতৃত্বে দোয়াত-কলম মার্কার পক্ষে অন্তত ৩০/৩২টি কেন্দ্রের ভোট জোর করে কেটে নেয়া হবে। সেই উদ্দেশে সাহাদারা মান্নানের অনুগতরা সাধারণ ভোটারদেরকে ওই সব কেন্দ্রে যেতে নিষেধসহ বিভিন্ন রকম হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কেউ ভোট কেন্দ্রে গেলে তার হাত-পা ভেঙে দেয়া হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে বগুড়া-১ আসনের (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, মুনজিল আলী সরকার দলীয় প্রার্থী। আমি এবং দল শুরু থেকেই তার পক্ষে রয়েছি। বরং তিনিই দলীয় মনোনয়ন পেয়ে আমাদের কাছে আসেনি। তারপরও ভেদাভেদ ভুলে দলের জন্য সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।

সাহাদারা মান্নান বলেন, মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার একজন মিথ্যাবাদী। তিনি না চাইলেও আমরা নৌকার জন্য মাঠে রয়েছি, ভোট চাচ্ছি। আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, সারিয়াকান্দির দলীয় প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহম্মদ মুনজিল আলী সরকার তাদের কাছে স্থানীয় এমপি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

লিমন বাসার/এমএমজেড/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :