সচেতনতার অভাবে ৫টিরও বেশি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন নারীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভোলা
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৯

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেলে প্রায় ১২/১৩ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু এখানে নেই কোনো পরিবার পরিকল্পনার সেবা। ফলে এখানকার প্রতিটি পরিবারেই ৫-৮টি করে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন নারীরা। এতে দিন দিন তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলছে।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চাঁদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বিচ্ছিন্ন চর মোজাম্মেলের গ্রাম। এখানে ২০০৩ সাল থেকে জনবসতি শুরু হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৩ হাজার মানুষের বসবাস।

কৃষি কাজ ও মাছ শিকার করে জীর্বিকা নির্বাহ করে চর মোজাম্মেলের মানুষ। এখানে দীর্ঘদিন মানুষের বসবাস শুরু হলেও আজও মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য গড়ে ওঠেনি কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতাল। ফলে পরিবার পরিকল্পনার কোনো সেবা পাচ্ছেন না এখানকার মানুষ।

bholla-1

চর মোজাম্মেলের চার সন্তানের জননী বিলকিছ বেগম (২২) বলেন, আমার বিয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তাকে এখানে আসতে দেখিনি। আমরা জানি না পরিবার পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো কিছু। এখন আমি চার সন্তানের জননী। যদি পরিবার পরিকল্পনার নিয়ম জানতাম তাহলে এতে দ্রুত চারটি সন্তান হত না।

আট সন্তানের জননী ইয়ানুর বেগম (৩৫) নামে আরেক নারী বলেন, আমাগো এনে কোনো পরিবার পরিকল্পনার কর্মী নাই। এসব গোপন বিষয়ে কারো লগে আলাপ করতে লজ্জা লাগে। এ কারণে আমার এতরি সন্তান হইছে।

ওই চরের বাসিন্দা মো. হারুন বেপারি বলেন, এখানকার নারীরা পরিবার পরিকল্পনার কথা জানে না। এমকি গর্ভবর্তী মাও তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। এখানে স্বাস্থ্য সেবার জন্য কোনো ক্লিনিকও গড়ে ওঠেনি। এখানকার মানুষ স্বাস্থ্য সেবা নিতে ট্রলারে করে ৭০/৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে তজুমদ্দিন বা মনপুরা উপজেলায় যায়। তাও আবার প্রতিদিন একবারের বেশি ট্রলার যায় না। আবার বৃষ্টি হলেও যায় না। জরুরি প্রয়োজনে কেউ যদি যায় তহলে ২-৪ হাজার টাকায় রিজার্ভ ট্রলার নিয়ে যেতে হয়। যা গরিব মানুষের পক্ষে অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। এখানকার মানুষ খুবই অসহায়।

চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম জাহাঙ্গীর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ চর মোজাম্মেলে বসবাস করলেও তারা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানে না। তাই ওইখানকার প্রতিটি নারীর ৫-৮টি করে সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে আমি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

bholla-2

তজুমদ্দিন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার চন্দ্র বলেন, চর মোজাম্মেলে অনেক মানুষের বসবাস। এখানকার প্রসূতি মা ও নারীদের অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। এখানে আসার পরই চর মোজাম্মেললের বিষয়ে জানতে পেরে মেডিকেল ক্যাম্প করে প্রসূতি মা ও নারীদের পরিবার পরিকল্পনার সেবা দেয়ার পরিকল্পনা করেছি।

তবে ভোলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরচালক মাহামুদুর হাসান আজাদ বলেন, জনবল সঙ্কটকের কারণে চর মোজাম্মেলের প্রসূতি মা ও নারীরা কোনো সেবা পাচ্ছে না। আমরা তাদের সেবা প্রদানে কর্তৃপক্ষের কাছে জনবল নিয়োগের জন্য জানিয়েছি। আশাকরি দ্রুত জনবল নিয়োগ হবে এবং সেখানে পরিবার পরিকল্পনার সেবা পাবে।

জুয়েল সাহা বিকাশ/এফএ/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :