১৬ কিলোমিটার সাঁতরে সেন্টমার্টিনে তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৫১ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৯

একসঙ্গে সাঁতরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছেছেন দুই নারীসহ ৩৪ সাঁতারু। এদের মধ্যে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ এবং ডাকসুর নবনির্বাচিত এক সদস্যও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে সাঁতার শুরু করেন ৩৪ সাঁতারু। মাঝপথে সাঁতারে ব্যাঘাত ঘটায় এক ঘণ্টা পর দুইজন সাঁতারু ট্রলারে উঠে পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে অন্যরা সাঁতরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৌঁছান।

পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে ও মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এ সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই দলের সঙ্গে যোগ দেয়া নারীরা হলেন- মিতু আকতার ও সোহাগী আকতার। এর মধ্যে মিতু আকতার প্রথম বাংলাদেশি নারী যিনি এর আগে বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছিলেন।

দলে রয়েছেন বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতার গত ১৩ বার পাড়ি দেয়া সাঁতারু লিপটন সরকার। এছাড়া মোহাম্মদ শোয়াইব নামে ৬৯ বছরের এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ এবং সাইফুল ইসলাম রাসেল নামে ডাকসুর নবনির্বাচিত এক সদস্যও রয়েছেন এ দলে রয়েছেন।

sainmartin

ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও অফরোড বাংলাদেশের আয়োজন, ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন এবং কোস্টগার্ডের সহায়তা এবং এডিবল ওয়েল লিমিটেডের ব্র্যান্ড ‘ফরচুন’ এর পৃষ্ঠপোষকতায় এ সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে প্রোমোট করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচয় করার লক্ষ্যে বিগত ১৩ বছর ধরে এ আয়োজন অব্যাহত আছে। যা বাংলাদেশের তরুণ ও যুব সমাজকে মানসিক-সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে। এতে যুব সমাজ সুস্থ খেলাধুলা ও অ্যাডভেঞ্চারে উদ্বুদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা চ্যানেলের যাত্রা শুরু হয়। এটির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন বিখ্যাত আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ও স্কুবা ডাইভার প্রয়াত কাজী হামিদুল হক। তার তত্ত্বাবধানেই প্রথমবারের মতো ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার এবং সালমান সাঈদ ২০০৬ সালে ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দেন। এরপর থেকে প্রতি বছরই এই সাঁতারের আয়োজন করা হয়।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম