মাওলানা আমকুনির জানাজায় মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০১৯

 

সিলেট নগরের জামেয়া মাহমুদিয়া সোবহানিঘাট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শফিকুল ইসলাম আমকুনির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তার জানজার নামাজে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে।

রোববার বিকেল ৩টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের বড় ছেলে মাওলানা আহমদ কবির। পরে মানিক পীরের (রহ.) মাজার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মাওলানা আমকুনির জানাজার নামাজে অংশ নিতে সকাল থেকে সিলেট নগর ও আশপাশের উপজেলা থেকে লোকজন আলিয়া মাদরাসায় আসতে থাকেন। জানাজার নামাজের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ভরে যায়।

নামাজের পূর্বে মরহুমের জীবনী নিয়ে দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ, আলেম-উলামারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা বলেন, মাওলানা আমকুনি ছিলেন একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন ও বহুগুণে গুণান্বিত শ্রদ্ধাভাজন মানুষ। দ্বীনিশিক্ষার প্রচার-প্রসার ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। যা পূরণ হওয়ার নয়। বক্তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

jana

এর আগে শনিবার বাদ মাগরিব নগরের মিরাবাজার আগপাড়াস্থ বাসায় ইন্তেকাল করেন মাওলানা শফিকুল ইসলাম আমকুনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে পাঁচ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মাওলানা আমকুনি নিজ গ্রাম সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার সুন্দিশাইল মসজিদ থেকে শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। এরপর জামিয়া হুসাইনিয়া রানাপিং, জামিয়া দেউলগ্রাম, জামিয়া ঢাকা দক্ষিণ মাদরাসায় প্রাথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামের মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারি মাদরাসা ও পাকিস্তানের জামিয়া বিন্নুরী নিউ টাউন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বরেণ্য এ আলেম সিলেট নগরের সোবাহানিঘাট জামিয়া মাহমুদিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম, সোবহানিঘাট মসজিদের মুতাওয়াল্লি ও খতিব হিসেবে আজীবন দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

এছাড়া তিনি সিলেটের জামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর, জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর, জামিয়া দারুসসালাম খাসদবির মাদরাসাসহ অসংখ্য দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক, মুহতামিম, মুহাদ্দিস হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।

ছামির মাহমুদ/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :