তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ দুই কিশোরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ১২:৫৪ পিএম, ১১ মে ২০১৯

খুলনার কয়রা উপজেলার হদুবুনিয়া গ্রাম থেকে নিখোঁজ দুই কিশোরের সন্ধান গত তিনদিনেও পাওয়া যায়নি। ছেলেদের সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে পাগল প্রায় নিখোঁজদের পরিবার।

নিখোঁজ নবদ্বীপ সানা (১৩) কয়রার হদুবুনিয়া গ্রামের তরুণ সানার ছেলে ও শচীন্দ্রনাথ মন্ডল (১৪) একই উপজেলার চৌকুনী গ্রামের বকুল মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
নবদ্বীপ ও শচীন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই।

নবদ্বীপের বাবা তরুণ সানা বলেন, আমার একমাত্র ছেলে নবদ্বীপ সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিনের ন্যায় সে ৮ মে (বুধবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাগবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়তে যায়। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা তার ফুফাতো ভাই নবম শ্রেণি পড়ুয়া শচীনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের কাঁঠালতলা বাজার সংলগ্ন কয়রা নদীর ধারে ঘুরতে যায়। রাত ১০টার দিকে ভাত খাওয়ার সময় তাদেরকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। সেই থেকে গত তিনদিন এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তাদের খোঁজ করিনি। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নবদ্বীপের চাচি জবা রাণী জানান, রাত ৮টার দিকে ওরা যখন ঘুরতে যায় তখন সর্বশেষ আমার সঙ্গে ওদের দেখা হয়।

শচীনের বড় বোন শতাব্দী জানান, চারিদিকে নানা গুঞ্জন ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে তিনদিনেও নিখোঁজ দুই ভাইয়ের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সবাই প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে।

এলাকার আবু তালেব শেখ বলেন, ১০ বছর পূর্বে এলাকা থেকে ৫/৭ বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর হঠাৎ গত বুধবার রাত ৮টার পর থেকে এলাকার দুই কিশোরের নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনছি।

নিখোঁজ নবদ্বীপের গায়ের রং শ্যামলা, মুখোমন্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, পরনে ছিল গেঞ্জি ও ট্রাউজার, অপরদিকে শচীনের গায়ের রং ফর্সা, মুখমন্ডল গোলাকার, উচ্চতা ৫ ফুট, পরনে ছিল সাদা গেঞ্জি ও ফুলপ্যান্ট। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি নিখোঁজ দুই কিশোরের সন্ধান পেলে তাদের পরিবার ও কয়রা থানায় সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনরা।

কয়রা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক বিশ্বাস বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শচীন্দ্র নাথ ও নবদ্বীপ হয়তো কোথাও চলে গেছে। তবে রোহিঙ্গা বা ছেলে ধরারা ধরে নিয়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা এখানে ঘটেনি।

আলমগীর হান্নান/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :