দাম বেশি, ঘুরছেন ক্রেতারা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার (ঢাকা)
প্রকাশিত: ১০:০৭ পিএম, ২১ মে ২০১৯

>> ইফতারের পর জমে সাভার-আশুলিয়ার ঈদবাজার
>> চলে গভীর রাত পর্যন্ত
>> দামে বনিবনা না হওয়ায় এখন কেনা হয়নি : এক ক্রেতা

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে গত দুই দিনে সাভার ও আশুলিয়ার ছোট বড় বিপণিবিতানে বেড়েছে ক্রেতা সমাগম। নিজেকে পরিপাটি করে সাজাতে কাপড়, প্রসাধনী ও জুতার দোকানে সন্ধ্যার পর থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বাড়তি লাভের আশায় নতুন ডিজাইনের পণ্যে দোকানে পসরা সাজিয়েছেন। তবে গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। বিক্রেতারা বলছেন, পোশাকের দাম এবার তুলনামূলক কমই।

গত কয়েকদিন সাভার ও আশুলিয়ায় সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন ইফতারের পর থেকেই জমে ঈদবাজার। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে সাভারের নিউ মার্কেট, সিটি সেন্টার, রাজ্জাক প্লাজাসহ বড় মার্কেটগুলোর পাশাপাশি হকার্স মার্কেটগুলোতেও আসছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া আশুলিয়ার সেনা শপিং কমপ্লে, হাসেম প্লাজা, মণ্ডল মার্কেটসহ ছোট বিপণিবিতানেও বেড়েছে ক্রেতাদের আগমন।

সিটি সেন্টারে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী সুমি আক্তার বলেন, প্রতি বছর ঈদে অতিরিক্ত ভিড় বাড়ার আগেই তিনি স্বামী, দুই সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি ও বাবা-মার জন্য কেনাকাটা সেরে নেন। আজ (মঙ্গলবার) স্বামী, দুই সন্তানকে নিয়ে মার্কেটে এসেছেন তিনি। সন্তানদের জন্য পোশাক ও স্বামীর জন্য পাঞ্জাবি কিনেছেন। তবে দামে বনিবনা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত নিজের জন্য শাড়ি ও পরিবারের অন্যদের জন্য পোশাক কেনা হয়নি।

svar-1.jpg

তিনি জানান, গতবারের চেয়ে এবার পোশাকের দাম কিছুটা বেশি বলে অনেক দোকান ঘুরতে হচ্ছে তাকে।

একই মার্কেটের কাপড় বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদ মৌসুমে বাড়তি লাভের আশায় তিনি ইতোমধ্যেই বাহারি রং ও ডিজাইনের পোশাক এনেছেন । তার দোকানে পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রিপিচ, ও ছোটদের পোশাকের অনেক কালেকশন আছে, যা তুলনামূলক কম দামে স্বল্প লাভেই বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যেই তাদের মার্কেটে ক্রেতা সমাগম বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে তাকে।

সাভারের নিউ মার্কেটে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত তরুণী তানিয়া আহমেদ বলেন, তিন হাজার টাকা দিয়ে একটি থ্রিপিচ কিনেছি। এর সঙ্গে মিলিয়ে ক্লিপার ও গহনা পছন্দ করছি। তবে গতবারের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রেতারা একটু বেশি দাম হাঁকছেন।

এই বিপণিবিতানে জুতার শোরুমের বিক্রেতারা জানান, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে তাদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু ক্রেতাদের সংখ্যাই বেশি।

তবে ২০ রোজার পরে তাদের বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

svar-1.jpg

আশুলিয়ার সেনা শপিং কমপ্লেক্সের ক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, এবার ঈদে কম মূল্যে ভালোমানের একটি পাঞ্জাবি নিজের জন্য কিনবেন তিনি। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে বাবা, মা, ভাই, বোন ও স্বজনদের জন্যও ঈদের পোশাক কিনবেন। তাই আগে থেকেই দোকান ঘুরে ঘুরে দর যাচাই করছেন। পছন্দের সঙ্গে দামের মিললেই কিনবেন তিনি।

সেনা শপিং কমপ্লেক্সের প্রসাধনী ও গহনা বিক্রির দোকানিরা জানান, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এমিটেশন জাতীয় গহনা, টিপ, নেইল পলিশ, মেকাপ, চুড়িসহ প্রসাধনী কিনতে নারী ক্রেতারা দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ক্রেতা সমাগমের কারণে হিমসিম খেতে হচ্ছে তাদের।

এ ছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ছোট বিপণিবিতানে ছুটির দিন ছাড়াও ক্রেতা সমাগমে দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না দোকানিরা। স্বল্প আয়ের ক্রেতারা কম দামে চাহিদামতো ঈদসামগ্রী কিনতে প্রতিদিন ছুটে আসছেন এসব দোকানে। বিক্রেতারাও এই ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে তাদের দোকানে ঈদ কালেকশন রেখেছেন।

আল-মামুন/জেডএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :