মাঝনদীতে ফেটে গেল লঞ্চের তলা, প্রাণে বাঁচল ৪০০ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৮:৪০ পিএম, ২৫ মে ২০১৯

বরিশালের হিজলা উপজেলার মিয়ারচর এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেডের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে যাত্রীবাহী যুবরাজ-৭ লঞ্চের তলা ফেটে পানি উঠে যায়। লঞ্চটি দ্রুত চালিয়ে তীরে নিয়ে যাওয়া হলে নিরাপদে নেমে যান যাত্রীরা। লঞ্চে চার শতাধিক যাত্রী ছিলেন, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন সবাই।

অন্যদিকে বাল্কহেডটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। বাল্কহেডে চালক ও সুকানিসহ আটজন শ্রমিক-কর্মচারী ছিলেন। তারা সবাই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেলা ২টার দিকে আওলাদ-৪ নামের অপর একটি লঞ্চে করে যুবরাজ-৭ লঞ্চের যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

barishal-Meghna-river,1

হিজলা থানা পুলিশের ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান বলেন, এমভি যুবরাজ-৭ লঞ্চটি চার শতাধিক যাত্রী নিয়ে শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। মধ্যরাতে ঝড়ো-হাওয়ায় লঞ্চটি হিজলা উপজেলা এলাকার একটি চরে নোঙর করে রাখা হয়।

রাতে ঝড় থেমে গেলে ভাটার কারণে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় লঞ্চটি চরে আটকা পড়ে। সকালে অন্য একটি লঞ্চের সহায়তায় চর থেকে যুবরাজ লঞ্চটিকে নদীতে নামানো হয়। এরপর ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি রওনা দেয়। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পরই মেঘনার মিয়ারচর এলাকা সংলগ্ন মাঝনদীতে এমভি সিয়াম নামে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের সঙ্গে যুবরাজ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এতে বাল্কহেডটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায় এবং যুবরাজ লঞ্চের তলা ফেটে পানি উঠে যায়। লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে দ্রুত তীরে নিয়ে যাওয়া হলে যাত্রীরা নিরাপদে নেমে যান। তাই বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

barisha

এমভি যুবরাজ-৭ লঞ্চের মাস্টার সিরাজ বলেন, উল্টো দিক থেকে বাল্কহেডটি এসে লঞ্চের তলায় সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীরা হতাহত না হলেও লঞ্চটির তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে। দ্রুতগতিতে তীরে ভিড়তে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরে আওলাদ-৪ লঞ্চযোগে আমাদের লঞ্চের যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু বলেন, তলা ফেটে যাওয়া লঞ্চটি দ্রুত তীরে পৌঁছতে পারায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। এরপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাইফ আমীন/এএম/এমকেএইচ