সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যু, পুলিশ বলছে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯
নিহত মুজাহার আলী হাওলাদার

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মুজাহার আলী হাওলাদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মুজাহার আলীর ভাইয়ের ছেলে সজিব হাওলাদারও আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃত মুজাহার আলী উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া গ্রামের মৃত হাসেম আলী হাওলাদারের ছেলে এবং কেদারপুর স্টিমারঘাট এলাকার মুদি দোকানি ছিলেন।

আটকরা হলেন, একই গ্রামের কালাম চাপরাশি ও তার চাচাতো ভাই রিপন চাপরাশি, খোকন চাপরাশি ও রুপম চাপরাশি।

আহত সজিব হাওলাদার জানান, কয়েক বছর ধরে জমি নিয়ে কালাম চাপরাশি ও তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছে। কালাম চাপরাশি ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের হয়রানি করতে পরপর ৫টি মামলা দেয়। ২টি মামলায় আমাদের পক্ষে রায় আসে। সম্প্রতি আরও ১টি মামলায় আমাদের পক্ষে রায় হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন কালাম চাপরাশি ও তার পরিবারের লোকজন। এর জের ধরে আজ সকালে আমাদের বাড়ির সামনে এসে কালাম চাপরাশিসহ তার পরিবারের ৭ থেকে ৮ জন লোক গালাগালি করতে থকে। এ সময় আমি (সজিব হাওলাদার) প্রতিবাদ করলে আমার ওপর তারা হামলা চালায়।

তিনি বলেন, আমার মাথা ফেটে রক্ত পড়তে দেখে চাচা মুজাহার আলী দৌড়ে আমাকে ছাড়াতে যান। এ সময় হামলাকারীরা চাচা মুজাহার আলীকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই চাচা মুজাহার আলীর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মুজাহার আলী হাওলাদার নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে প্রতিপক্ষের ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তবে এই সংঘর্ষে বৃদ্ধের মৃত্যুর কথা ওসি নিজেই নিশ্চিত করার পর তিনিই বলছেন, বৃদ্ধের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাদতন্তের পর জানা যাবে তিনি ঠিক কী কারণে মারা গেছেন।

সাইফ আমীন/জেডএ/পিআর