একসঙ্গে বিএনপি থেকে বাবা-ছেলের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০১ জুলাই ২০১৯

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতির পদ থেকে আব্দুল লতিফ মোল্লা ও তার ছেলে হারুন-অর-রশিদ স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপি সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদের কাছে ৩০ জুন বিএনপির দলীয় প্যাডে লিখিত পদত্যাগপত্রে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা নিজের অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে এ পদত্যাগের পাঁচদিন আগে আব্দুল লতিফ মোল্লার ছেলে হারুন-অর-রশিদ মোল্লা আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের পদসহ দলের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২৫ জুন দলীয় প্যাডে তিনি উপজেলা সভাপতি বরাবরে পারিবারিক কারণে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগের আবেদন করলে ২৭ জুন দলের সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লা তার পদত্যাগপত্র অনুমোদন করেন।

তাদের দল থেকে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি সদস্য এসএম আফজাল হোসেন। এছাড়া বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপি সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ।

জেলা ও আগৈলঝাড়া বিএনপির একাধিক নেতা জানান, গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা দীর্ঘ ৩০ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অবমূল্যায়ন হয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রুপিং ও দলের সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার কারণ তো রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বিএনপি সভাপতি আব্দুল লতিফ মোল্লার পদত্যাগে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান সমর্থিত গ্রুপ এখন আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

এদিকে, তার ছেলে হারুন-অর-রশিদ মোল্লা পারিবারিক কারণে দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগের আবেদন করলেও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক নেতা জানান, বাবা আব্দুল লতিফ মোল্লা ও হারুন-অর-রশিদ মোল্লা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করেই পদত্যাগ করেছেন। ক্ষমতাসীন দল ও পুলিশের হয়রানির মুখে তারা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপি সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ বলেন, বিষয়টি সোমবার আমি জেনেছি। তবে তারা পদত্যাগ নয়, অব্যাহতি চেয়েছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন করে জেলা-উপজেলার কমিটি গঠন করা হবে। এ কারণে হয়তো আগেই তারা অব্যাহতি চেয়েছেন।

সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :