চুরির অপরাধে নির্মাণ শ্রমিককে নির্যাতন, লজ্জায় আত্মহত্যা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি সাভার
প্রকাশিত: ০৪:১৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯
নির্মলের মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে

সাভারের আশুলিয়ায় চুরির অপবাদে গ্রাম্য সালিশে মারধর ও তালাবদ্ধ করে রাখার অপমান সহ্য করতে না পেরে নির্মল নামে এক নির্মাণ শ্রমিক আত্মহত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আটক করেছে পুলিশ।

রোববার বেলা ১২টায় আশুলিয়ার টেঙ্গরী পুকুরপাড় এলাকা থেকে ফাঁস লাগানো মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। নির্মলের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায়।

এ ঘটনায় পুলিশ আশুলিয়ার টেংঙ্গরী পুকুরপাড় এলাকার মৃত আহম্মেদ আলীর ছেলে বেলায়েত হোসেন (৫২), কুমিল্লার বরুড়া থানার পয়ালগাছা গ্রামের ইলিয়াছ মন্ডলের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০) ও আলমগীরের স্ত্রী আরোয়ারা বেগমকে (৩৮) আটক করেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রামকৃষ্ণ দাস জানান, গত রাতে চুরি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে এলাকার কথিত মাতবর আতাল নির্মলকে ডেকে পাঠায়। পরে নির্মল গ্যারেজ মালিক বেলায়েত ও তার সহযোগী আলমগীরকে ফোন করে সেখানে ডাকে। কিন্তু বেলায়েতের সঙ্গে কথিত মাতবর আতালের পূর্ব শত্রুতা থাকায় ওই সময় তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় ইউপি মেম্বার করিম চিশতি সেখানে গিয়ে অটোরিকশা চুরির বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলে জানালে সবাই ফিরে যায়।

ইউপি মেম্বার কথা না শুনে রাত ১টার দিকে গ্যারেজ মালিক বেলায়েত ও আলমগীর আবারও নতুন করে সালিশ বসিয়ে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে নির্মলকে মারধর এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। পরে রাতে জরিমানার টাকা আদায়ের জন্য নির্মল যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তার কক্ষে বেলায়েতের নির্দেশে স্থানীয় আলমগীর ও তার স্ত্রী আনোয়ারা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয়।

পরে সকালে তালা খুলে ডিসের তার দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় নির্মলকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এমএএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :