চালকের হঠাৎ লেন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে ৮ জনের করুণ মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৮:০২ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯
ফাইল ছবি

গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন শেষে কুমিল্লা নগরীতে ফিরছিলেন হোটেল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। কিন্তু বেপরোয়া বাস চালকের কারণে মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল জীবনের সব আয়োজন। এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামের বাড়িতে।

এর আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার জামতলী এলাকায় ওই দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন ছাড়াও তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও মাসহ ৬ জন এবং পরে আরও ২ জনসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। ওই পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য রিফাতকে (১০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জেলার লাকসামগামী তিশা পরিবহনের একটি বাস লালমাই উপজেলার জামতলীতে পৌঁছার পর হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে কুমিল্লা শহরগামী সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ওই সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেয়ার পর একই পরিবারের ৬ জনসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঘোড়াময়দান গ্রামের মৃত আবদুর জব্বারের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৫), জসিম উদ্দিনের মা সাকিনা বেগম (৭০), স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪০), ছেলে শিপন (২৩), ছেলে হৃদয় (১৫), মেয়ে নিপু আক্তার (১৩) ও হোটেল বয় একই গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে সায়মন (১৫) এবং সিএনজি অটোরিকশার চালক একই উপজেলার করপাতি গ্রামের মৃত জিতু মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (৩৫)। জসিমের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য রিফাতকে (১০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত জসিম উদ্দিনের ভাই মো. মহসিন জানান, তার ভাই জসিম উদ্দিন, মা, স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে কুমিল্লা নগরীর গাংচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং পাশের গোয়াল পট্টিতে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতেন। কোরবানির ঈদের ছুটিতে স্বপরিবারে বাড়িতে আসেন।

ঈদের ছুটি শেষে সবাই মিলে সিএনজি অটোরিকশাযোগে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন তিনি। এদিকে দুর্ঘটনার খরব পেয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম, হাইওয়ে কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ তদারকি করেন। একই পরিবারের প্রায় সব সদস্য দুর্ঘটনায় নিহতের খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, বাসচালকের ভুলের কারণে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে নারী ও শিশুসহ ওই পরিবারের সদস্যরা উঠেছিলেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাস চালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

কামাল উদ্দিন/এমএএস/জেআইএম