বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়া নিয়ে শিক্ষার্থীকে পেটালো দুই শিক্ষক!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শরীর চর্চা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিক্ষার্থী সিয়ামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনেরা।

উপজেলায় অবস্থিত ১০৪নং চরভাগা আক্কাছ হাওলাদার বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন প্রধান শিক্ষক ডিএম আবুল হোসেন ও শরীর চর্চা শিক্ষক মো. নিরব মিয়া। এর আগেও অনেক ছাত্রকে এভাবে মারধরের অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও শরীর চর্চা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

আহত সিয়াম (১১) উপজেলার চরভাগা ইউনিয়নের পেদাকান্দি গ্রামের মৃত শোহরাফ হোসেন বেপারীর ছেলে। সিয়াম ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। রোল নং ১ ।

শিক্ষার্থী সিয়ামের মা সাহিদা বেগম বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নিপার সঙ্গে আমার ছেলের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল ও শরীর চর্চা শিক্ষক মো. নিরব মিলে আমার ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বেঞ্চ থেকে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। এ ঘটনার পর ছেলেকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। আমার ছেলেকে যারা মারধর করেছে তাদের বিচার চাই।

তিনি বলেন, ইউএনও স্যার ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।

প্রধান শিক্ষক ডিএম আবুল হোসেন শিক্ষার্থী সিয়ামকে মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, ক্লাসে কুইজ প্রতিযোগিতা ছিল। তখন নিরব স্যার ছিলেন। শিক্ষকের কাছে প্রতিযোগিতার লেখা আগে জমা দেয়া নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিপা ও সিয়ামের সঙ্গে মারামারি হয়। সিয়াম নিপাকে অকর্থ ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। আমি ধমক দিলেও শুনে না। পরে সিয়ামের মা ও তার নানাকে খবর দেই। তারা এসে ওকে নিয়ে যায়। এখন শুনি সিয়াম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমি সিয়ামকে মারধর করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

শিক্ষক মো. নিরব মিয়া মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, কোনো শিক্ষকের কথা শুনছিল না সিয়াম। বেঞ্চে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করছিল সে। তাই ওর হাত ধরে টান দিলে মেঝেতে পড়ে যায়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহাবুবুর রহমান শেখ বলেন, এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছগির হোসেন/এমএএস/এমএস