রেফারি লাল কার্ড দেখানোয় সংঘর্ষ, আহত ৩০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ১০:৩৮ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলার সময় সদরের দুই ইউনিয়নের সংঘর্ষে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনুর্ধ্ব-১৭ এর সেমিফাইনাল খেলায় এ ঘটনা ঘটে। খেলার শেষের দিকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ও দালালবাজার ইউনিয়নের খেলোয়াড় ও দর্শকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দালালবাজার টিমের কোচ সুজন হোসেনসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল তাদেকে আটক করেন।

এদিকে রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল আহতদেরকে দেখতে সদর হাসপাতালে যান। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম নিশান ও সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কিনান জোবায়ের শুভ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। রাত সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

southeast

আহতদের মধ্যে অন্যরা হলেন- খেলোয়াড় সাইফুল, নিশাদ, বিপ্লব, আকবর, নাইম, জুয়েল, সজিব, সাইফুল, জিহাদ, জকির হোসেন, ইউসুফ, শাকিল, ইসমাইল, সোহাগসহ ২৭ জন। আহতরা সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ, দালালবাজার ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক অনুর্ধ্ব-১৭ এর সেমিফাইনাল ম্যাচে শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার দালাল বাজার ও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন অংশগ্রহণ করে। খেলার শেষের দিকে রেফারি দালালবাজার ইউনিয়নের এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেন। এ নিয়ে বিতর্ক হলে রেফারি ম্যাচ পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যান। এ সময় ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন দুই গোলে এগিয়ে থাকায় দালালবাজারের খেলোয়াড়রা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দুই ইউনিয়নের দর্শকরা স্টেডিয়াম গ্যালারি থেকে লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে নেমে এসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। তাদের থামাতে গিয়ে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ছাত্রলীগ নেতারাও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় খেলার মধ্যে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। উভয়পক্ষকে শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফাইনাল খেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

কাজল কায়েস/এমএসএইচ