থ্রিজি-ফোরজি সেবা বন্ধ : বিড়ম্বনায় উখিয়া-টেকনাফবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২:১৪ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছিল মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। ইন্টারনেট ব্যবহার করে গত ৫ আগস্ট রোহিঙ্গারা দোয়া মাহফিলের নামে তারা মহাসমাবেশ করে। এ ঘটনার পর থেকে নড়েচড়ে বসে সরকার।

এর প্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় থ্রিজি এবং ফোরজি মোবাইল ডেটা সেবা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ফলে উখিয়া ও টেকনাফবাসী বিড়ম্বনায় পড়েছে।

নেট দুনিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ ইন্টারনেটনির্ভর মানুষদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পুরো এলাকাজুড়ে থ্রিজি-ফোরজি বন্ধ রাখায় বাড়ছে অসন্তোষও।

উখিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি সরোয়ার আলম শাহীন বলেন, রোহিঙ্গাদের অপরাধ দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি। গত তিনদিন আগে নেটওয়ার্ক পুনরায় চালু করে থ্রিজি-ফোরজি সেবা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাও তথ্য আদান-প্রদানে পড়েছে বেকায়দায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মী আরাফাত সানি, খুরশিদা আকতার, তৃষ্ণা রানী জানান, উখিয়ার ২০টি ক্যাম্পে অন্তত ১০টি মোবাইল টাওয়ারের সুবিধা নিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভয়েস কলে কথা বলতো রোহিঙ্গারা। এখন থ্রিজি-ফোরজি সুবিধা সংকীর্ণ করায় মিয়ানমারের এমপিটি কোম্পানির সিম দিয়ে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করছে তারা। ক্যাম্পগুলোতে মিয়ানমারের এমপিটি সিম চোরাই পথে এনে বাজারজাত করছে রোহিঙ্গারাই। আশ্রিত রোহিঙ্গারা এতসব সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় লোকজনকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা।

উখিয়ার বালুখালী এলাকার ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কোনোভাবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

কুতুপালংয়ের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক খান বলেন, ইন্টারনেট সুবিধা দূরে থাক, মোবাইলে আগের মতো কথাও বলা যাচ্ছে না। নেটওয়ার্ক সমস্যার সাথে কল ড্রপের বিড়ম্বনাও বেড়েছে। স্থানীয় লোকজন সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

পালংখালী ইউপির চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে আমার এলাকায় কোনো ধরনের থ্রিজি-ফোরজি নেটওয়ার্ক নেই। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নানা দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় সব ধরনের মোবাইল সিমসহ নতুন সংযোগ প্রদানও বন্ধ রয়েছে।

নেটওয়ার্ক কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেডের মার্কেট কমিউনিকেশনের জিএম আশিকুর রহমান বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসরণ করে উখিয়া-টেকনাফে থ্রিজি-ফোরজি সেবা বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকদের মাঝে দুর্ভোগ ও উত্তেজনা থাকলেও কিছু করার নেই।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিটিআরসি থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থ্রিজি-ফোরজি সেবা বন্ধ রাখতে। কিন্তু নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো বলছে, উখিয়া-টেকনাফ পুরো এলাকায় নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এখনও পাইনি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএসএইচ