১৬ কোটি টাকা লোপাট : ঠিকাদার ও সিভিল সার্জনের জামিনে জোর তদবির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১২:৪৩ এএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারাগারে রয়েছেন জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান। গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই মামলায় ওই দিন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকাল কোম্পানির সত্ত্বাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকার, তার বাবা হাজী আব্দুর সাত্তার সরকার, ভগ্নিপতি আসাদুর রহমান ও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কাজী আবু বকর সিদ্দিক খুলনার আদালতে জামিন আবেদন করেন। খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক শহীদুল ইসলাম তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গত ৯ জুলাই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় দুদক সমন্বিত খুলনা কার্যালয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন। এ মামলায় আসামি সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানসহ ৯ জনকে করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, যোগসাজস করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ১৫৯ ধরনের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় না করে ভুয়া তিনটি বিল ভাউচার করে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৬ কোটি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৮২৭ টাকা লোপাট করা হয়েছে- এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জেলাবাসী। টাকা লোপাটকারী সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানসহ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে সাতক্ষীরা শহরে মিছিল, বিক্ষোভ ও সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও করে শাস্তির দাবি জানায় সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে দুদক। মামলায় কোটি কোটি টাকা লোপাটের সত্যতা পাওয়ায় দুদকের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি তৌহিদুর রহমান উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক ৬ সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন জানালে তা নামঞ্জুর করে এ সিভিল সার্জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অপর আসামি সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন গত ২৭ আগস্ট একই আদালতে জামিনের আবেদন জানালে সেটিও নাকচ হয়ে যায়। মামলার অপর পলাতক আসামি স্টোর কিপার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন উচ্চ আদালত।

সাতক্ষীরার আদালত ও খুলনার আদালতে দুর্নীতির এ মামলায় জামিনের জন্য জোর চেষ্টা তদবির অব্যাহত রেখেছেন আসামিপক্ষ। আজ সোমবার খুলনা ও সাতক্ষীরার আদালতে পৃথকভাবে কারাগারে আটক থাকা পাঁচ আসামির জামিনের আবেদন করা হবে বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা আদালতের অতিরিক্ত পিপি তামিম হোসেন সোহাগ জাগো নিউজকে জানান, শুনেছি তিনি জামিনের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে আদালতে জামিনের আবেদন না দেয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তিনি যদি জামিনের আবেদন জানান তবে দুর্নীতিবাজ এ সাবেক সিভিল সার্জনের জামিনের বিরোধিতা করা হবে।

অপরদিকে, দুদকের সাতক্ষীরার পিপি অ্যাড. মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু জাগো নিউজকে বলেন, দুদক অফিসের কর্মকর্তা মারফত জানতে পেরেছি সোমবার খুলনার আদালতে চার আসামির জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার নথি খুলনা আদালতে যাবে সোমবার। সেখানে খুলনা কারাগারে আটক থাকা চার আসামির জামিন শুনানি হবে। এছাড়া আগামী বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরার আদালতে ওই মামলার ধার্য দিন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মামলার প্রধান আসামি সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানের আইনজীবীরা মামলার সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করেছেন। সোমবার সাতক্ষীরা আদালতে তার জামিনের আবেদন করবেন এমন তথ্য আমি পাইনি। তবে জামিনের আবেদন জানালে আমাদের সিন করে নেবেন তার আইনজীবীরা। আমরা আদালতে তার জামিনের বিরোধিতা করবো।

আকরামুল ইসলাম/এমএসএইচ