মিলন হত্যা : এসআইসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাত সন্দেহে পুলিশের উপস্থিতিতে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। এ ঘটনায় জড়িত কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই আকরাম শেখসহ পলাতক ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। নোয়াখালী আমলী আদালত-২ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান দায়েরকৃত চার্জশিট আমলে নিয়ে সোমবার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কল্পনা রানী দাস জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্ত শেষে প্রায় তিন বছর পর সিআইডির কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহম্মেদ এসআই আসলাম শেখকে বাদ দিয়ে চলতি বছরের ৯ মার্চ আদালতে ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে আবদুর রাজ্জাক নামে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় ৭ জন বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। আদালত সবদিক বিবেচনা করে স্ব-প্রণোদিত হয়ে চার্জশিটে এসআই আসলাম শেখকে অন্তর্ভুক্ত করে পলাতক ২১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা ২০১১ সালের ২৭ জুলাই ৬ ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করে। কিশোর মিলন ওইদিন সকালে চর ফকিরা গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে চর কাঁকড়া একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে একদল লোক তাকেও ডাকাত সন্দেহে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। এরপর কোম্পানীগঞ্জের তৎকালীন এসআই মো. আকরাম শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মিলনকে থানায় না নিয়ে ডাকাত সাজিয়ে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেন। এরপর তারা নিরপরাধ কিশোর মিলনকে পুলিশের উপস্থিতিতেই পিটিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। ঘটনার কয়েকদিন পর মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্রে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে সর্বত্র আলোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনার পর ২০১১ সালের ৩ আগস্ট মিলনের মা কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে নোয়াখালীর ২ নম্বর আমলি আদালতে একটি পিটিশন মামলা করেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৮ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। প্রথমে এ মামলার তদন্ত করে স্থানীয় থানা-পুলিশ।

২০১৫ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান ভূঁইয়া ঘটনার ভিডিওচিত্র দেখে চার পুলিশ সদস্যসহ ৩২ জন আসামির সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নোয়াখালীর ২ (দুই) নম্বর আমলি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল) দাখিল করে মামলার দায় হতে তাদের অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করেন।

এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২৭ জন আসামির মধ্যে একজনের (শাহ আলম) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে বাদীর মামলা না চালানোর আবেদনেরও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ‘এজহারে বর্ণিত ঘটনা সত্য বলিয়া প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হইলেও কে বা কাহারা উক্ত ঘটনা করিয়াছে উহা প্রমাণ করার মত পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় ভবিষ্যতে মামলা প্রমাণ করার মত স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হবে’ বলে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

কিন্তু একই বছরের ৫ নভেম্বর নোয়াখালী ২ (দুই) নম্বর বিচারিক আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট্র ফারহানা ভূঁইয়া ডিবি পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তাও বারবার সময় নিয়ে অবশেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

মিজানুর রহমান/এমএমজেড/পিআর