চার বছরে ৪ বার অধ্যক্ষের বাসভবন সংস্কার, ২৪ লাখ টাকা লোপাট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাগুরা
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কলেজের অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলীর বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অধ্যক্ষ আইয়ূব আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন বহু অভিযোগ জাগো নিউজের হাতে এসেছে। চার পর্বের ধারাবাহিকের দ্বিতীয়টি থাকছে আজ। বাংলায় মাস্টার্স করে পদার্থ-রসায়নের ক্লাস নেন অধ্যক্ষের মেয়ে শিরোনামে জাগো নিউজে মঙ্গলবার প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যক্ষের বাসভবন ব্যবহার না করে সরকারি টাকা লোপাট, মালামাল না কিনে স্টক রেজিস্টারে ভুয়া তালিকা জমা, স্মারক খাতার পাতায় জায়গা ফাঁকা রেখে পেছনের তারিখে (ব্যাক ডেট) কারসাজি করেছেন আইয়ূব আলী।

কলেজের ফ্রিজ, টেলিভিশন ও এসিসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস ডিভাইস প্রতি বছর না কিনেও নতুন কেনা হয়েছে দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলী।

কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি ক্রয় নীতিমালা না মেনে ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘রাজস্ব বাজেট কোড ৪৯৩১’ বরাদ্দ নিয়ে গত চার বছরে অধ্যক্ষের বাসভবন সংস্কার ও সম্প্রসারণ দেখিয়ে ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলী।

এর মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছর ৮ লাখ ৮ হাজার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ লাখ ১৮ হাজার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ লাখ ৫৭ হাজার ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ লাখ টাকা বাসভবন সংস্কারকাজে ব্যয় করা হয়েছে। বাস্তবে প্রতি বছর অধ্যক্ষের বাসভবন সংস্কার করা হয়নি। এমনকি একদিনের জন্যও সরকারি বাসভবন ব্যবহার করেননি অধ্যক্ষ। অথচ প্রতি বছরই বাসভবন বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করে বাজেট চেয়ে সরকারি অর্থ লোপাট করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত চার বছরে চারবার বাসভবন সংস্কার ও সম্প্রসারণ দেখিয়ে ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলী। ১২০০ স্কয়ার ফিটের ছোট একটি বাসভবন সংস্কারকাজ বাবদ গত দুই বছরে অধ্যক্ষকে ১৬ লাখ ৮ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এর আগের দুই অর্থবছরে বাকি টাকা দেয়া হয়েছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, গত চার অর্থবছরে কয়েকজন জেলা প্রশাসক বদলি হয়েছেন। ফলে নতুন জেলা প্রশাসক এলেই অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছেন অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। তবে গত চার বছরে বাসভবন সংস্কারকাজ বাবদ যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ নিয়েছেন অধ্যক্ষ তা দিয়ে নতুন দোতলা একটি ভবন নির্মাণ করা যেত। কারণ গত চার বছরে ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন অধ্যক্ষ।

এছাড়া ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স (স্নাতক) ও মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) সম্পন্ন করে পদার্থ ও রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক হয়েছেন অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলীর মেয়ে আইরিন সুলতানা। পাশাপাশি কলেজের শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আাসামিকে নিজের প্রতিষ্ঠানে নাইটগার্ডের চাকরি দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন অধ্যক্ষ আইয়ূব আলী।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আইয়ূব আলী বলেন, দেশের সব প্রতিষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। এখানেও কিছুটা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে শুরু করে দেশের অনেক এমপি-মন্ত্রী আমার আত্মীয়। দুর্নীতি করেছি, আপনি পারলে কিছু করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে মামলা করে দেব। সারাজীবন কোর্টের বারান্দায় রাখব।

পড়ুন দুর্নীতি সংক্রান্ত আরও খবর

আরাফাত হোসেন/এএম/এমএস