ভিক্ষুকের জমি ওসি ও চেয়ারম্যানের দখলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রংপুরে পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে বুধবার দুপুরে নগরীর টাউন হল চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন জমির অংশীদার নূরজাহান বেগম ও তার স্বজনরা। তবে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূরজাহান বেগম বলেন, আমার বাবার নামে ক্রয় করা রংপুর সদরের দক্ষিণ মমিনপুর এলাকার ২ একর ৪৮ শতক জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার কলিম উদ্দিনের স্ত্রী কদিরন নেছার সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলছে। এ ঘটনায় আমি ও আমার অংশীদারদের দায়ের করা চারটি মামলা চলমান। এছাড়াও আমার মামলাগুলোর আসামি কদিরন নেছার অংশীদাররাও একটি মামলা করেছেন। সেটিও চলমান। ওই সম্পত্তি নিয়ে মোট ৫টি মামলা রয়েছে।

কয়েক মাস আগে কদিরন নেছা জমিটি রংপুর নগরীর গনেশপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছে বায়না সূত্রে দলিল করেন। পরে জমিগুলোর ভায়া দলিল কিংবা অন্যান্য কাগজপত্র না থাকার কারণে বায়না টাকা ফেরত দেন কদিরন নেছা।

এরই মধ্যে হরিদেবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন ১ একর ৯৬ শতক জমি গত ৮ এপ্রিল কদিরন নেছার কাছ থেকে বায়না দলিল করে নিয়ে পরদিনই সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইকবাল হোসেন চেয়ারম্যানের নামে বায়না দলিল হলেও তা দখলে নেন সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম। তিনি দখলে নিয়ে স্থানীয় চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে সিন্ডকেট তৈরি করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময় ওসি নিজের মুঠোফোন থেকে অংশীদারদের কিছু টাকার বিনিময়ে ‘না দাবি’ লিখে দিতে চাপ দেন। যার অসংখ্য কথোপকথনের মোবাইল রেকর্ডিং সংরক্ষিত আছে।

এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই রংপুরের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও রংপুর ডিআইজি, দুর্নীতি দমন কমিশন ও উপজেলা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আরমান আলীকে। তিনি প্রথম অবস্থায় দীর্ঘ ২০ দিন অতিবাহিত করে ওসিকে নির্দোষ বলে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনটি সন্তোষজনক না হওয়ায় পুলিশ সুপার পুনরায় তদন্ত করে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য এএসপি আরমান আলীকে নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও এখন প্রতিবেদন দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে নূরজাহান বেগম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমার অংশীদাররাও অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনাহারে-অর্ধাহারে সংসার পরিচালনা করছেন।’

তিনি বলেন, আমরা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারি না। বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দেয়ার পর আজ ৫৫ দিন অতিবাহিত হলেও রংপুর সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি ও ইকবাল চেয়ারম্যান এখনও সম্পত্তিটি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছেন। নিরূপায় হয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর ন্যায়বিচার চেয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আবারও একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সদর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে হরিদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, সামাজিকভাবে হেয় করতে আমাকে জড়িয়ে এসব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। একটি মহলের ইন্ধনে কদিরন নেছার ওই জমি নিজেদের দাবি করছে নূরজাহান বেগম ও তার স্বজনরা।

তিনি আরও বলেন, জমির মূল মালিক কদিরন নেছার কাছ থেকে বায়না দলিল করে নিয়েছি। জমি-সংক্রান্ত যে মামলা আদালতে বিচারাধীন, তা নিষ্পত্তি শেষে অভিযোগকারীরা যদি তাদের পক্ষে রায় পায় তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে নূরজাহান বেগম ও ভাতিজা করিমসহ অন্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

জিতু কবীর/এমএএস/পিআর