নার্সদের কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ, ক্যানোলা ও ওষুধ জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ০৯:০১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে (মহিলা) সেবিকাদের কক্ষে বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ ও ক্যানোলা, স্যালাইন ও ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের সরবরাহ করা ওষুধ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে সেবিকাদের কক্ষে মজুত রাখা হয়। সুযোগ বুঝে এগুলো বাইরে বিক্রি করে দেয়া হতো বলে রোগী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেনের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেগুলো জব্দ করেন। এসব সিরিঞ্জ, ক্যানোলা, ওষুধ, স্যালাইন ও সুচ কীভাবে মজুত হলো, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি কর্মকর্তারা।

হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে রোগীদের জন্য সরকারিভাবে সিরিঞ্জ, ক্যানোলা, ওষুধ, স্যালাইন ও সুচ সরবরাহের কথা থাকলেও মেডিসিন ওয়ার্ডের (মহিলা) সেবিকারা তা বেশিরভাগ রোগীকে বিতরণ করতেন না। রোগীদের হাতে চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে ওষুধ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী বাইরের ফার্মেসি থেকে নিয়ে আসতে বলতেন। পরে এসব ওষুধ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী পরে বাইরে বিক্রি করে কিছু অসাধু সেবিকা টাকা হাতিয়ে নিতেন। দুপুরে পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন ওই ওয়ার্ড পরিদর্শনে গেলে সেবিকাদের কক্ষে ২ হাজার পিস সিরিঞ্জ, ক্যানোলা, স্যালাইন ও সুচ জব্দ করা হয়। এছাড়া জব্দ করা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ।

barishal3

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন জানান, স্টোররুম থেকে সরবরাহ করা ওষুধ রোগীদের মধ্যে ঠিকমতো বিতরণ হয় কীনা তা যাচাই করতে তিনি প্রতি মাসে ওয়ার্ডের স্টোররুমগুলো পরিদর্শনে যান। গত তিন মাস ডেঙ্গু রোগীর চাপের কারণে ওয়ার্ডগুলো পরিদর্শন করেননি। দুপুরে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের স্টোররুম পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ, ক্যানোলা ও স্যালাইন সুচ পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক পরিমাণ বেশি। এছাড়া স্যালাইন ও ওষুধও মজুত পাওয়া গেছে। সঠিকভাবে বিতরণ করলে এগুলো এত মজুত থাকার কথা নয়।

পরিচালক বাকির হোসেন জানান, তিনি সেগুলো জব্দ করেছেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হবেন জব্দ করা চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো বৈধ নাকি অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবেন বলে জানান ডা. বাকির হোসেন।

তবে ওয়ার্ড ইনচার্জ হোসেন আরা বেগম দাবি করেছেন, কাগজপত্রের হিসাবের সঙ্গে মজুত ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর মিল রয়েছে। এতে কোনো গড়মিল হয়নি।

সাইফ আমীন/এমএএস/এমএস