রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চলছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ বাজারের নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টার। প্রতিষ্ঠানের মালিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হয়েও রোগীদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শতভাগ গ্যারান্টিসহকারে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

সিভিল সার্জনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠান চালু রাখলেও এখন পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা। এমন কথা জানালেন উপজেলার সিএসএ চিকিৎসক ফরিদা ইয়ামিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার নওগাঁ বাজারের নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল হামিদ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। তিনি হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষাসহ নানা প্যাথলজি পরীক্ষা করেন। রোগীদের নানা রকম পরামর্শের পাশাপাশি ওষুধের দোকান খুলে ইচ্ছামতো ওষুধ বিক্রি করেন।

নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই কোনো বড় বা ভালো চিকিৎসক। দু’একজন চিকিৎসক থাকলেও প্রতি শুক্রবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে কিছুক্ষণ সময় দিয়ে চলে যান। বাকি দিনগুলোতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল হামিদ আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্ত পরীক্ষাসহ নানা প্যাথলজি পরীক্ষা করেন। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কার পাশাপাশি গ্রামের সহজ-সরল রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নেয়া নারগিস আক্তার বলেন, আমার পেটের বাচ্চা ছেলে না মেয়ে এটা জানার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম করেছি। চিকিৎসক আব্দুল হামিদ শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলেছেন আমার পেটের বাচ্চা ছেলে। কিন্তু অবশেষে আমার মেয়ে সন্তান হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের কাছ থেকে ছেলে সন্তানের কথা বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে আব্দুল হামিদ হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চিকিৎসক আব্দুল হামিদ প্রতারক।

এ বিষয়ে নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, আমি একা সবকিছু করি না। আমার এখানে আরও চিকিৎসক রাখা আছে। তারাও চিকিৎসা দেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দালালদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই দালাল আছে। আমার এখানেও আছে। আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে। আমার প্রতিষ্ঠানে ঢাকা থেকে বড় বড় চিকিৎসক এসে চিকিৎসা দিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাড়াশ উপজেলার সিএসএ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি এখন ঢাকা ট্রেনিংয়ে আছি। নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্র আমি দেখেছি। তাদের রেজিস্ট্রেশন নেই। ট্রেনিং থেকে ফিরে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে রেজিস্ট্রেশন নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নুরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দু’একদিনের মধ্যে অভিযান চালানো হবে। কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/পিআর