ভাবির সঙ্গে খালাতো ভাইয়ের শারীরিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় খুন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১১:১১ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাসানপুর গ্রামের খালেক মোল্লার ছেলে কাওছার (১৭) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ভাবির সঙ্গে খালাতো ভাইয়ের শারীরিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় কাওছারকে খুন করা হয়েছে বলে গ্রেফতাররা গতকাল বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কাওছার হত্যা মামলায় গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার পুরাট গ্রামের শুকুরের ছেলে মালেক (১৮), তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী মুসলিমা (২৬) ও উপজেলার খালইভরা গ্রামের দুলালের ছেলে রুবেল (১৯)।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, কাওসারের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে মালেকের ফোন লিস্ট দেখে গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মালেক জানান, খালু খালেক মোল্লার বাড়িতে থাকার সময় তার খালাতো ভাইয়ের স্ত্রী মুসলিমার (২৬) সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। একদিন মুসলিমার সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক দেখে ফেলে কাওছার। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা ও সংসার রক্ষায় কাওছারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসলিমা। পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে বসে কাওছারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুসলিমা। কিন্তু মালেক অপারগতা প্রকাশ করলে অন্যান্যদের সাহায্য নিতে বলেন মুসলিমা। পরে এলাকার চার বন্ধুকে নিয়ে কাওসারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মালেক।

গত শুক্রবার রাতে মালেক কাওছারকে গাঁজা খাওয়ার কথা বলে প্রথমে হাসানপুরের সুমনের মাছের খামারে নিয়ে যান। সেখানে লোকজন থাকায় তারা কৌশলে পাশের রেললাইনে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে কাওছারকে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওই চারজন মিলে রেলের পাত দিয়ে কাওসারের মাথায় আঘাত করতে থাকেন। পরে শরীরের শার্ট ও গেঞ্জি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মরদেহ পাশের খালে ফেলে দেন।

ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মালেকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার খালইভরা গ্রামের দুলালের ছেলে রুবেল (১৯) ও হাসানপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রী কাওছারের ভাবি মুসলিমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সাঁথিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম জানান, ভাবিসহ পাঁচ আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বুধবার পাবনা আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার উপজেলার হাসানপুর রেললাইনের নিচ থেকে কাওছারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল কাওছার।

আরএআর/পিআর