এতিম খুশির জমকালো বিয়ে দিলেন রংপুরের ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৯

আর দশটি জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের মতোই ছিল আয়োজন। এসেছিলেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। বুধবার গায়ে হলুদের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিয়ে হয় খুশি খাতুনের (১৮)। এতে সহযোগিতা করে সমাজসেবা অধিদপ্তর ও শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (বালিকা)।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, মোছা. খুশি খাতুন (১৮) ছোটবেলা থেকেই মানুষের বাসাবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে ছিলেন। সেখানে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। গৃহকর্তার নির্যাতনে তিনি ওই বাসা থেকে পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে থানায় সোপর্দ করে। ২০১৪ সালের ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ড কর্তৃক রংপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তাকে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (বালিকা) রাখা হয়। সেখানে ১৮ বছর পূর্ণ হলে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় তাকে কারুপণ্য নামে শতরঞ্জি তৈরি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়া হয়। পরে রংপুর নগরীর নিউ সাহেবগঞ্জ এলাকার মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে মো. লিখন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি ঠিক করে জেলা প্রশাসন। ছেলেটি পেশা রাজমিস্ত্রি।

সবার পছন্দে বিয়েতে রাজি হওয়া নবদম্পত্তি অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, তারা একে অপরকে পেয়ে খুশি। এজন্য তারা জেলা প্রশাসক, সমাজসেবা কর্তৃপক্ষসহ রংপুরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, তাদের ভবিষ্যৎ বংশধর যাতে মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এজন্য সবার দোয়া চান।

bor

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, মেয়েটি এতিম। তার বাবা-মা নেই। প্রশাসন পাশে আছে এমন ধারণা যেন এতিম মেয়েটির হয় এজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে সে অসহায়বোধ করতে না পারে। তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এজন্য তাদের নামে পারিবারিক পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতাও অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, পর্যটন মোটেলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে দেয়ার আরেটি উদ্দেশ্য হচ্ছে শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আরও যে দুই শতাধিক অনাথ শিশু আছে তাদের নিয়ে আনন্দ করা এবং তাদেরও বোঝানো যে তোমরা একা নও আমরা সবাই তোমাদের পাশে আছি ।

জিতু কবীর/এমএএস/এমকেএইচ