খাবার কেনা নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও চালকের কাণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৫:২৯ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

পঞ্চগড়ে শিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারপিট ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। রোববার দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবীর সরকার তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গতকাল শনিবার পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় খাবার কেনার দায়িত্ব নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে গাড়িচালক বাবলা জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলামকে মারপিট করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালককে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ।

মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ছয় দিনব্যাপী সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বিষয়ক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। কর্মশালায় জেলার পাঁচ উপজেলার ২০০ শিক্ষক অংশ নেন। কর্মশালার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসের একটি প্রকল্পের জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম। দুপুরের খাবার সময় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ এর গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলার সঙ্গে প্রশিক্ষণের খাবার কেনার দায়িত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণ সমন্বয়কের ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় গাড়িচালক বাবলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই তার গাড়িচালক বাবলা লাঠি দিয়ে ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে পেটান। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। একই সঙ্গে পুলিশ বাবলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতেই জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম তাকে মারপিট ও সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগে গাড়িচালক বাবলার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ইমতিয়াজ আলী বাবলা পঞ্চগড় সরকারি গাড়িচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি জেলা শহরের ইসলামবাগ মহল্লায়।

জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বাবলা। খাবার পরিবেশনসহ বিভিন্নভাবে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করতেন। এবার ২০০ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আমাকে ১৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়। আমি তাদের কথা শুনিনি বলে গাড়িচালক বাবলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই আমার ওপর হামলা করেন এবং লাঠি দিয়ে মারপিট করেন।

অভযুক্ত গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ওই কর্মকর্তাকে মারধর করিনি। তিনিই আমাকে মারপিট করেছেন। আমি শুধু তাকে বলেছিলাম, সব আপনি একা একাই করছেন। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এতেই তার সঙ্গে আমার ঝগড়া লেগে যায়।’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, আমার সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু তাদের কেউ আমার কোনো কথাই শোনেননি। ঘটনার পর বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া যেহেতু ওই শিক্ষা কর্মকর্তা মামলা করেছেন, তাই বিষয়টি এখন আদালতের মাধ্যমেই যা হবার তাই হবে। বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতেন পারেন।

সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আককাছ আহমেদ বলেন, শনিবার রাতেই জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে গাড়িচালক বাবলার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও মারপিটের অভিযোগে মামলা করেন। রোববার সকালে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।।

সফিকুল আলম/এমএএস/জেআইএম