ঠাকুরগাঁওয়ে যুবলীগ নেতার ক্ষমতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৭:১০ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ে এক ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় একটি মাদরাসার পুকুর দখল করে ইচ্ছেমতো মাছ বিক্রি করছেন। এতে বিপাকে পড়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুকুর লিজ নেয়া ব্যক্তি। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতি বছর এ পুকুরটি লিজ দিয়ে তারা প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন করে থাকেন। কিন্তু যুবলীগ নেতার এ কাণ্ডে থমকে গেছে তাদের ভবিষ্যৎ ভাবনা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই যুবলীগ বলছেন, দাদার সম্পত্তি হিসেবে পুকুরে তার জমির অংশ রয়েছে, তাই তিনি দখল করেছেন।

ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁ ইউনিয়নের কিসমত চামেশ্বরী গ্রামের। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার নাম জিয়াউর হুদা। তিনি চামেশ্বরী ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

এ ঘটনায় কিসমত চামেশ্বরী গ্রামের সাদেক, মিজানুর, রফিকুল ইসলামসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিসমত চামেশ্বরী ঈদগাঁ দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জিয়াউর হুদার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং বেশ কয়েকজন দাতা ২৮ বছর আগে মাদরাসার নামে ২ একর ৪৭ শতক জমি দান করেন। এরপর থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ওই পুকুর লিজ দিয়ে মাদরাসার উন্নয়নে ব্যয় করে আসছে।

তারা বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে যখন মাদরাসার নামে জমি দান করা হয় তখন জিয়াউর হুদার বয়স ছিল আনুমানিক ১০ বছর। দীর্ঘ ২৮ বছর পর হঠাৎ জিয়াউর হুদা পুকুরে তার অংশ আছে দাবি করে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করলে স্থানীয়রা ক্ষুদ্ধ হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিস বৈঠকও হয়। কিন্তু জিয়াউর হুদা সমাধানে আসেননি। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে পুকুরে খুঁটি স্থাপন করে মাছ তুলে বিক্রি করছেন প্রতিনিয়ত।

এ ঘটনায় বড়গাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম রবি জাগো নিউজকে জানান, জিয়াউর হুদা ওই ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এ কাজটি করে তিনি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। যদি তিনি জমি পেয়েই থাকেন তাহলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। তা না করে তিনি পুকুরে খুঁটি দিয়ে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। আমরা তাকে একাধিকবার বলেছি, কিন্তু তিনি গুরুত্ব দেননি।

Thakurgaon-

এ বিষয়ে কিসমত চামেশ্বরী ঈদগাঁ দাখিল মাদরাসার সুপার মো. নুর আলম সরকার জাগো নিউজকে জানান, আব্দুর রহমান, খাদেমুল ইসলাম, সমির উদ্দিন, মনোয়ারা বেওয়াসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘ ২৮ বছর আগে পুকুরের জমিটি মাদরাসার নামে দান করেন। কিন্তু হঠাৎ করে যুবলীগ নেতা জিয়াউর হুদা তার দাদার সম্পত্তির অংশ হিসেবে দাবি করে পুকুরে বাঁশের খুঁটি দিয়ে এক অংশ দখল করে নেন। জিয়াউর হুদার যখন বয়স ১০ বছর তখন তার বড় চাচা সমির উদ্দিন অন্যদের মতো পুকুরে কিছু জমি দান করেন। চাচার অংশকে টেনে দাদার জমি হিসেবে জিয়াউর হুদা তার অংশ পুকুরে জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন। তারপরও আমরা এ বিষয়ে কয়েকবার বৈঠক করেছি, কিন্তু সমাধান হয়নি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জিয়াউর হুদা দাবি করে জানান, আমি আমার অংশে খুঁটি স্থাপন করেছি। আর পুকুরে আমি নিজেও মাছ ছেড়েছি। তাই মাছ উত্তোলন করেছি। আমার ফুপু নফিফা খাতুন ও সরিফা খাতুন আমার নামে জমি লিখে দিয়েছে। সেই জমি পুকুরে রয়েছে। তবে এখানে দলের প্রভাব খাটিয়ে নয়, আমি ব্যক্তি হিসেবেই সবকিছু করেছি।

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল জাগো নিউজকে বলেন, দলের প্রভাব দেখিয়ে যদি ওই যুবলীগ নেতা পুকুর দখল করে তাহলে দলীয় প্রদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলের পুকুর দখলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএএস/জেআইএম