আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক নিহত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রেজাউল মোল্লা ওরফে আবু (৩৫) নামে এক পল্লী চিকিৎসক নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রেজাউল মোল্লা মারা যান। রেজাউল মোল্লা দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের মোবারক মোল্লার ছেলে।

আহতরা হলেন- সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদারের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু, বাবলুর মামা আব্দুস সালাম ব্যাপারী, আব্দুস সাত্তার খান, টোকন সরদার, গাজী সরদার, হাফিজুল চেয়ারম্যানের সমর্থক নিজাম শেখ, রহমান সরদার ও আলো মোল্লা। এদের সবাইকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম এবং ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আতর আলী সরদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পল্লী চিকিৎসক রেজাউল মোল্লাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় রেজাউলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক বলেন, বিকেলে দেবগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল স্থানীয় দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছিল। প্রথম অধিবেশন শেষে শুরু হয় কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ পর্ব। ভোটগ্রহণস্থলে উপস্থিত থাকা নিয়ে চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের ছেলে বকুল এবং পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আতর আলীর ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলুর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জেরে পরে দুপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়ায়। এতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বাবলু বলেন, কাউন্সিলস্থলে হাফিজুল চেয়ারম্যানের লোকজন চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের এনে কাউন্সিলকে প্রভাবিত করছিল। এর প্রতিবাদ করায় তারা আমার ওপর চড়াও হয়। পরে তারা সংগঠিত হয়ে আমাদের লোকজন ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারধর করে।

দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে ও তাদের লোকজন আমার মেয়ের দেবর রেজাউল মোল্লাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশের ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, কাউন্সিল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সংঘর্ষে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

রুবেলুর রহমান/এএম/এমকেএইচ