১৫ মণ মা-ইলিশসহ আটক ৩৯

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৮ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

বংশ বিস্তার মা-ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ আদেশ অমান্য করলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডের বিধান করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীতে ইলিশ শিকার করছে কিছু অসাধু জেলে। এর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনসহ নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদফতর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ মণ মা-ইলিশ জব্দসহ ৩৯ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ পরিবহনের সময় ২০০ ইলিশসহ তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

নারায়ণগঞ্জে ১১ মণ মা-ইলিশ জব্দ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলারে থাকা ২২ কার্টুন (আনুমানিক ১১ মন) মা-ইলিশ মাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ট্রলারসহ চালক লিটন ঢালীকে (৪০) আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান মাছের মালিকরা।

hilsa

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসপি হারুন অর রশীদ এমন তথ্য জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাসানুজ্জামানের নেতৃত্বে এএসআই রঞ্জন ঠাকুরকে নিয়ে বক্তাবলীর বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে একটি মা ইলিশ ভর্তি একটি ট্রলার আটক করা হয়। প্রত্যেকটি মাছ ডিম ওয়ালা।

এসপি হারুন অর রশীদ বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। মা-ইলিশ মাছ রক্ষায় মৎস্য বিভাগ ৯ অক্টোবর হতে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সব ধরনের ইলিশ শিকার ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। এতে করে প্রশাসন নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দেশের সম্পদ রক্ষা আমাদের সবারই দায়িত্ব। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি টিম বক্তাবলীতে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলার থেকে ২২ কার্টুন ডিমওয়ালা ইলিশ জব্দ করে। পরে বৃহস্পতিবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেই মাছ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসায় বিতরণ করা হয়।

hilsa

রাজবাড়ীতে ১৭ জেলেকে কারাদণ্ড
প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে রাজবাড়ীতে পদ্মায় ইলিশ শিকারের দায়ে মোট ১৭ জেলেকে আটকের পর মৎস্য সংরক্ষণ আইনে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এরমধ্যে জেলা সদরে ৩ জন, কালুখালীতে ৬ জন ও গোয়ালন্দে ৮ জনকে আটক করা হয়। এ সময় ২২৫ কেজি মাছ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। পড়ে জব্দকৃত মাছ জেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ এবং জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

জেলা মৎস্য অফিসার মোহা. মজিনুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত কেরেছেন। তিনি জানান, চলমান ইলিশ রক্ষা অভিযানের নবম দিনে ১৭ জেলেকে আটকের পর ১৫ দিন করে জেল দেয়া হয়েছে।

যমুনা থেকে ২১ জেলেকে আটক
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীতে ইলিশ ধরার অপরাধে দুই উপজেলা থেকে ২১ জেলেকে আটকের পর কারাদণ্ড প্রদান ও জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

hilsa

বৃহস্পতিবার ভূঞাপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসলাম হোসাইন এবং টাঙ্গাইল সদরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল করিম এই পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্গণ করে যমুনায় ইলিশ শিকারের অপরাধে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে ১২ জেলেকে আটকরা হয়। তারা হলেন- কালিকাউটিল গ্রামের ঠান্ডু সিকদারের ছেলে সুলতান সিকদার (৩০), আনোয়ার হোসেন সিকদারের আলম সিদকার (৪৫), মো. সোনাউল্লাহ সিকদারের ছেলে মো. ছাইদুল ইসলাম (৩০), ছামাদ মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক (২১), নওয়াব মোল্লার ছেলে শহর আলী (৪৫), গফুর শেখের ছেলে মো. মজনু শেখ (৪২), দেলদা গ্রামের মো. একাব্বর আলীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিকী (৪০), আব্দুল গনির ছেলে মো. আজাহার (৪২), মো. ছুরমান আলীর ছেলে মো. শওকত আলী (৪২), নরসিংহপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লার ছেলে মাজেদুল মোল্লা (২২), ঝাউগারা গ্রামের মো. নূরনবীর ছেলে মো. মামুন মিয়া (২২) এবং ফোরকান আলী তালুকদারের ছেলে শুকুর আলী (৩১)। পরে তাদের মোট ৩১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রম্যমাণ আদালত।

এছাড়া ভূঞাপুরে অপর এক অভিযানে ৯ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন- উপজেলার চরচন্দিনী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আমীর হামজা, জগৎপুরা গ্রামের শামছুলের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেন, শাজাহান আলীর ছেলে আশরাফুল, হারুন রশিদের ছেলে সবুজ হাসান, বাসুদেবকোল গ্রামের জামান হোসেনের ছেলে সোহেল রানা, ডিগ্রীরচর গ্রামের ফরিজল মন্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলার বীল হাইলদা গ্রামের হুরমুজ আলীর ছেলে মোতালেব ওর মোশারফের ছেলে মো. হোসেন আলী। তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মো. শাহাদাত হোসেন/রুবেলুর রহমান/ আরিফ উর রহমান টগর/এমএমজেড/জেআইএম